SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২৬-১১-২০১৯ ২৩:৪৮:০৫

‘সবাই যায় সাদা কাফনে, আমার সন্তান গেছে লাল গোলাপী কাপড়ে’

mother-somoy

গুলশান হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলায় ২২ জনের মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো বিশ্বকে। আতঙ্ক আর অসহায়ত্ব নিয়ে বাংলাদেশ সাক্ষী হয়েছিল ধর্মীয় উগ্রবাদের। ঘটনার সাড়ে ৩ বছর পর, হাহাকার বুকে নিয়ে স্বজন হারানো পরিবারগুলো আরও দৃঢ় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। জানালো ধর্মীয় উগ্রতা কখনোই জেকে বসতে পারে না এ দেশে।

নিহত এসি রবিউলের মা করিমন নেছা বার বার কান্নায় মূর্ছা যেতে যেতে বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর পার হয়ে গেল। বড় ছেলেটা চলে গেল। ছোট ছেলেটা বাড়িতে আসে না। ছোট বেলায় বাবা চলে যায়। ভাইকে অসম্ভব ভালোবাসতো। ভাই হারানোর পর এখন বাড়িতেই আসতে চাই না কষ্টে।’

এক অন্ধকার কেড়ে নিয়েছে সন্তান। কিন্তু ছেলের মানবিক আদর্শ জ্বলছে নক্ষত্র হয়ে। মা বেঁচে আছেন সেই তারার পানে চেয়ে।

মা করিমন নেছা বলেন, ‘যে দিনটির জন্য মানুষ সব সময় প্রার্থনা করে। যে নামাজ না পড়ে সেও বলে আল্লাহ যেন শুক্রবারে মৃত্যু হয়, শহীদের মৃত্যু হয়; না হয়তো লাইলাতুল কদর বা রমজানের সময় মৃত্যু হয়। আমার ছেলের জন্য কোনটাই আল্লাহ বাকি রাখে নাই। সবগুলার মধ্যে দিয়ে ওরে আল্লাহপাক নিছে। সবার সন্তান যায় সাদা কাফনে আর আমার সন্তান গেছে লাল গোলাপী কাফনে।’

২০১৬ সালে ১ জুলাই হলি আর্টিজানে সব ঝরা প্রাণের গল্পই হয়তো এসি রবিউল ইসলাম কামরুলের মতো। সাড়ে তিন বছর পরেও স্বজনের বুকে শূন্যতার হাহাকার।

রাজধানীর গুলশানে ওই রেস্তোরায় জঙ্গিরা জিম্মি ২০ জনকে হত্যা করে। যাদের মধ্যে ৯ জন ইতালি, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় নাগরিক। ৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি। আর তাৎক্ষণিক অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২ জন সদস্য। পরে জিম্মি উদ্ধারে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে ৫ জন হামলাকারী নিহত হন।

নিহত এসি রবিউল এর ভাই শামসুজ্জামান শামস বলেন, ‘একজন মানুষ জঙ্গিবাদে জড়িত ছিল বলে তার ফ্যামিলি লাশ নিতে অস্বীকার করেছে। এটা একটা শিক্ষণীয় বিষয়। যারা জঙ্গিবাদে যেতে পারত তারা হয়ত এটা থেকে শিক্ষা নিয়েছে।’

স্বজন হারানোর পরও তারা বিশ্বাস করেন, পরস্পরকে সহযোগিতার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ দমন সম্ভব।

ধর্মীয় উগ্রবাদের কারণে হলি আর্টিজানে যে নৃশংস হামলা হয়েছিল, সেই ঘটনায় যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের অনেকেই ছিলেন নানা ধরনের সমাজ সেবামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের সেই স্বপ্নগুলো যাতে পূরণ হয়, তার দাবি জানিয়েছেন পরিবারে সদস্যরা।

২০১৬ সালের ১ জুলাই ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিক নিহত হন। ২ জুলাই সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গিসহ মোট ছয়জন নিহত হন। শেষ হয় শ্বারুদ্ধকর সেই জিম্মি দশার।