SomoyNews.TV

স্বাস্থ্য

আপডেট- ২৬-১১-২০১৯ ১২:২৭:৩৫

একই টেস্টের ফি হাসপাতাল ভেদে দ্বিগুণ, দেখার নেই কেউ

pathology-fee-2

টেস্ট রিপোর্টে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা নিচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। একই টেস্টের ফি হাসপাতাল ভেদে দ্বিগুণ তিনগুণ পর্যন্ত পার্থক্য থাকলেও কোনো মাথাব্যথায় নেই স্বাস্থ্য বিভাগের। ডাক্তারদের কমিশন বা অন্য সবগুলো কারণ খতিয়ে দেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার জোর তাগিদ অর্থনীতিবিদদের।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারভেদে একই পরীক্ষার দাম বিভিন্ন রকম হওয়ায় ফলাফল নিয়ে সন্দিহান রোগীরা।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেস্ট রিপোর্টের বিলের পার্থক্য তিনগুণ পর্যন্ত। একইভাবে বেসরকারি সেন্টারগুলোর মধ্যেও মূল্য তালিকা আড়াই-তিনগুণ হওয়ায় দিশেহারা রোগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সাবেক একজন ল্যাব ম্যানেজারের মতে, একেকটি টেস্টে অন্তত ৭০ শতাংশ মুনাফা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেন, রক্ত গ্রুপ, ডায়াবেটিকস পরীক্ষা করতে এখানে ২০০ থেকে ৪০০ টাক করে নিচ্ছে। একটা কিডসের দাম সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন হাজার টাকা। কিন্তু একটা টেস্টের জন্য পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। একটা কিডস দিয়ে আটটা পরীক্ষা করা যায়।

এক্ষেত্রে সরকারের চরম উদাসীনতার কথা উল্লেখ করে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কেবল চিকিৎসকের কমিশন বন্ধ করা গেলে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পরীক্ষার ফি কমানো সম্ভব।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নীতিমালা থাকতো, র‌্যাকিং করা থাকতো হসপিটাল অনুযায়ী। আর এ নীতিমালা না থাকায় যার ইচ্ছামতো টাকা নির্ধারণ করছে।

স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে একটা মোটামুটি ভিজিট করা আছে। তারপরও এই বিষয়টি আমাদের কাছে আসছে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করব। 

ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভেদে বিলের পার্থক্যের পাশাপাশি ল্যাবের মান নিয়েও নানা প্রশ্ন জনসাধারণের মনে। তাই ল্যাব ও হাসপাতালের মান যাচাই করে টেস্ট রিপোর্টের ফি নির্ধারণ করা না গেলে স্বাস্থ্যসেবা নাগালের বাইরে চলে যাবার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।