SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৫-১১-২০১৯ ০৫:২৮:১০

‘ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না রাজউকে’

rajuk-

রাজউকে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানি আর ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে গ্রাহকদের। অভিযোগ আছে, ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই এগোয় না-এ প্রতিষ্ঠানে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, হয়রানি কমাতে যে ডিজিটালাইজেশন পদ্ধতি চালু করেছে সরকার, সেটিকে পুরোদমে কার্যকর না করার মধ্য দিয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা জারি রেখেছে ঘুষ বাণিজ্য। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মন্ত্রী।

উত্তরার ৫ ও ১৪ নম্বর সেক্টর। আশির দশকে এখানে একটি প্লট কেনেন এক শিক্ষক। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেখানে বাড়ি করতে পারছেন না তিনি। কারণ রাজউক বলছে, সিভিল এভিয়েশনের ছাড়পত্র ছাড়া সেখানে বাড়ি করা সম্ভব নয়। আইনও তাই বলে। কিন্তু শিক্ষকের ছেলের দাবি, ওই দুই সেক্টরের শত শত প্লট একই কারণে যেমন ফাঁকা পড়ে আছে; তেমনি বহু ফাঁকা প্লটের গা ঘেঁষে, উঠে গেছে ৬তলা অনেক ভবনও। কিন্তু কীভাবে?

শিক্ষকের ছেলে জানান, কোনো না কোনো মহলে বা প্রতিষ্ঠানকে ম্যানেজ করে কাজ করতে হয়েছে। অধিকার আদায় করতে গেলে বিভিন্ন অসুবিধা পড়তে হয়।

শুধু তাই নয়, একই এলাকায় নির্মাণাধীন রয়েছে সরকারেরই আরেক সংস্থা ডেসকোর ৬তলা একটি ভবন। তাদের (ঠিকাদার) কাছে প্রশ্ন ছিল, এখানে ছয়তলা বাড়ি করা যায় না। তাহলে এটা কীভাবে হলো। তখন তারা জানান, এ বিষয়ে আমরা কিছুই বলতে পারব না। রাজউক বলতে পারে।

এ তো গেল রাজউকেরই প্লটে বাড়ি করতে না পারার ভোগান্তি। কিন্তু নিজের জমিতেই ভবন তুলতে রাজউকের কাছে বহুদিন ঘুরে নকশা পাশ করিয়ে ভবন অক্ষত রাখতে পারেননি দক্ষিণখানের কুলসুম বেগম। নকশা পাস করাতে যেমন ঘুষ দিতে হয়েছে তেমনি ভবন তোলার সময় ৫ থেকে ৬ বার ঘুরে গেছেন রাজউকের কর্মকর্তারা। তখন ছাড় পেলেও সম্প্রতি অভিযানে এসে নকশার ভুল ধরে ভবনের কিছু অংশ ভেঙ্গে দিয়েছে রাজউক।

রাজউকের জোনাল অফিসগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন গ্রাহকেরা। কারো অভিজ্ঞতাই সুখের নয়। যদিও পরবর্তীতে ভোগান্তির ভয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি নন কেউই।

বাজউকের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে এক ব্যক্তি জানান, একটা কাজের জন্য একবার এসে কখনোই হয় না। প্লান পাস করতে গেলে কি টাকা দিতে হয়? এটা শুরু থেকে দিতে হয়।

এক দলাল জানান, সব দেখার পর প্লানটা পাস করাতে পারবেন কি -না..। পারবো, দৌড়াদৌড়ির ব্যাপার আছে, খরচাপাতি আছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলছেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোনোভাবে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করা যাবে না।’

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এসব হয়রানি আর ভোগান্তি বন্ধে মন্ত্রণালয় রাজউকের অনেক কাজ ডিজিটালাইজ করেছে; কিন্তু গ্রাহকদের সে পথে হাঁটতে নিরুৎসাহিত করেন কর্মকর্তারা।

নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়া সরকার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তাকে বাধ্যতামূলকভাবে এখনই কার্যকর করা উচিত।’

সেবা নিতে গিয়ে বাড়ির মালিকেরা যেমন হয়রানিতে পড়েন এটি যেমন সত্য, তেমনি নকশা পাস করানোর পর বেশিরভাগ মালিকই নকশাবহির্ভূত কাজ করতে চেয়ে; নিজেরাই কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করতে চান- সেটিও নির্মম বাস্তবতা।