SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২২-১১-২০১৯ ১৮:৩২:৫৩

মেয়েকে উত্ত্যক্তকারীর লাথিতে প্রাণ গেল বাবার

70264144-565167747

যশোরে মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটের লাথিতে আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে যশোর উপশহর সারথী মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বখাটে হোসেন আলীকে আটক করেছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত আব্দুর রাজ্জাক ও হত্যাকারী হোসেন যশোর উপশহর সারথী মিল এলাকার জাফর আলী বিশ্বাসের বাড়ির ভাড়াটিয়া। নিহত রাজ্জাক একই এলাকায় প্রহরীর চাকরি করতেন।

এলাকাবাসী নিহতের স্বজনরা জানান, আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে রজনীকে (২০) প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন হোসেন আলী। তিনি মেয়েটির ছবি ও অন্য কারোর সঙ্গে ফোনালাপ রেকর্ড করেন এবং অপর একজনকে দিয়ে কু প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে সেই ফোনালাপ ও ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি মেয়ে তার বাবা-মাকে জানায়। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে রাজ্জাকের সাথে হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। আজ সকালে ফের ঝগড়া হলে হোসেনকে একটি চড় মারেন রাজ্জাক। এ সময় হোসেন তাকে বুকে লাথি মারলে তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের লোকজন তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যায়।

নিহত রাজ্জাকের মেয়ে রজনি  জানান, হোসেন আমাকে তার কথা মতো চলতে বলে। তার কাছে নাকি আমার কি রেকর্ডিং রয়েছে। অথচ কিসের রেকর্ডিং তাও আমি জানি না। আমি একথা বাড়িতে বলে দেই। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়। এর প্রতিবাদ করায় হোসেন আমার বাবার বুকে জোরে লাথি মারে। এতে আমার বাবা মারা যান। সে আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে।

নিহতের স্ত্রী সকিনা বেগম বলেন, আমার মেয়ের মালয়েশিয়া প্রবাসী মুরাদ নামে এক ছেলের সাথে বিয়ে হয়েছে। জামাইয়ের বাড়ি বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরার তেজরোল গ্রামে। আর ১৮ দিন পরে জামাইয়ের বিদেশ থেকে আসার কথা। হোসেন আমার মেয়েকে বিরক্ত করতো। তার স্বামী প্রতিবাদ করতে গেলে হোসেন তার বুকে লাথি মারে। এতে তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। এসময় তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। তাকে দ্রুত হাসপাতলে নিয়ে গেলে হাসপাতালের ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরো বললেন, আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।’

এলাকাবাসী জানায়, মেয়েটি খুবই ভালো। তবে হোসেনের চরিত্র ভালো না। তার একাধিক স্ত্রী আছে। সে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতো। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তারা হোসেনর ফাঁসির দাবি জানান।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, স্থানীয়ভাবে জানতে পেরেছি একটি অডিও রেকর্ড নিয়ে মেয়েটিকে ব্লাকমেইল করছিল হোসেন। এ নিয়ে আজকে গোলযোগের এক পর্যায়ে হোসেনের লাথিতে রাজ্জাকের মৃত্যু হয়। এ অভিযোগে হোসেনকে আটক করা হয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।