SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২২-১১-২০১৯ ০৩:০১:২৬

যুবলীগকর্মী হত্যা মামলায় শিক্ষার্থীদের ফাঁসানোর অভিযোগ

raj-case-copy

রাজশাহীতে যুবলীগকর্মী হত্যা মামলায় জেএসসি পরীক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ তিনজনকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। আটকের পর ঘুষের টাকা না দেয়ায় এ মামলায় আসামি করার অভিযোগ স্বজনদের। তবে থানা পুলিশের দাবি, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে তাদের। আর মহানগর পুলিশ কমিশনার বলছেন, তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে দায়িত্বরত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ১৩ নভেম্বর খুন হন যুবলীগকর্মী মোহাম্মদ রাসেল। এতে ওই দিনই দায়ের করা মামলার এজাহারে দুপুর পৌনে দুইটায় হত্যাকাণ্ড হয়েছে উল্লেখ করা হয়। এতে সন্ধ্যায় আসামি ধরতে তৎপরতা বাড়ায় পুলিশ। খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নগরীর শিরোইল কলোনির থেকে তুলে নেয়া হয় জেএসসি পরীক্ষার্থী কামাল উদ্দিন, মুজাহিদ ইসলাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহিনুর রহমানকে। অথচ সিসি টিভি ফুটেজে এবং শিক্ষা বোর্ডের উপস্থিতিপত্র মতে, হত্যাকাণ্ডের সময় এদের কেউ ছিলেন পরীক্ষা কেন্দ্রে, আবার কেউ ভিন্ন নগরে। তবু শুধু শাহিন দারগোর ঘুষের টাকা না দেয়ায় তাদের আসামি করা হয়েছে বলে দাবি, আটক শিক্ষার্থীর স্বজনদের।

আটক শিক্ষার্থীর স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমার ছেলেকে যখন শাহিন ধরে তখন টাকা চায়। টাকা না দেওয়ায় তাকে আসামি বানায়। কাগজ দেখানোর কারণেও পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। এছাড়াও প্রত্যেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় আমাদের আসমিরা কেউ ছিল না সেখানে।

তবে, উপ-পুলিশ পরিদর্শক শাহিন এ দায় চাপালেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর। আর পুলিশ কমিশনারের দাবি, ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের।

রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার  উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহিন বলেন, মামলার আয়ু ধরে তাদের চালান করা হয়েছে। এখানে থানার ওসি সায়েব সবকিছু জানেন। টাকা পয়সা আমি কেনও খাব?

রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, এখন পর্যন্ত যে তদন্ত হয়েছে তা থেকেই আসামিদের ধরা হয়েছে।  

তবে এ ঘটনায় কোনো অনিয়মের সত্যতা মিললে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানালেন মেট্রোপলিটান পুলিশের শীর্ষ এ কর্মকর্তা।

রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির আরও বলেন, কোনও ধরনের মিসবিহাব বা টাকা পয়সার চাওয়ার বিষয়ে যদি কোনও প্রমাণ মিলে তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। 

যুবলীগকর্মী রাসেল হত্য মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত সাত-আট জনকে আসামি করা হয়।