SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২১-১১-২০১৯ ১৪:২৫:৫৩

রাজধানী সুপার মার্কেট গড়ে ওঠে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে

15

অপরিকল্পিতভাবে দোকান বরাদ্দ দেয়া পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকাসহ সঠিক দেখভালের অভাবকেই রাজধানী সুপার মার্কেটের আগুনের জন্য দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। আগুনে নিঃস্ব, হতাশাগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আর কারও ভাগ্যে যেন না ঘটে এমন করুণ পরিণতি। পরিবার নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের সহায়তা চেয়েছেন তারা।

এমনই বুকফাটা আর্তনাদ আর কান্নায় ভারি রাজধানী সুপার মার্কেট। অগ্নিকাণ্ডের পর আজই- বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সুযোগ মেলে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের খোঁজ নেয়ার। তবে চোখের সামনে শুধুই ধ্বংসাবশেষ। আগুন ছিনিয়ে নিয়েছে বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকুও।

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজধানী সুপার মার্কেট গড়ে ওঠে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে। দোকানিদের অভিযোগ, আগুন নেভানোর সামগ্রী থাকলেও ছিল না কার্যকারিতা।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হলেও মার্কেটটিতে দীর্ঘদিন ধরে ছিল না কোনো নজরদারি বলে জানান এডিসি শফিকুল ইসলাম।

গতকাল বুধবার বিকেলে লাগা প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার আগুনে পুড়ে যায় রাজধানী সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলার অন্তত ৫০টি দোকান।

প্রতি বছরই রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে ঘটছে আগুনের ঘটনা। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায়ই প্রাণহানির পাশাপাশি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সব শেষ গতকাল আগুন লাগে টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেটে। এতে বিভিন্ন মালামালসহ পুড়ে যায় অনেকগুলো কাপড়ের দোকান।

চলতি বছর ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ আগুনের লাগে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান ২৫ জন। এছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। পুড়ে মালিবাগ, খিলগাওয়ের কাঁচাবাজার।

এফ আর টাওয়ারের আগুনের তাপ না কমতেই দুদিন পর আগুন লাগে গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটে। আগুনে মালামাল পুড়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়ে ওই মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি একই মার্কেটে আগুন লেগে সর্বস্ব হারায় ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৬শ’ দোকান মালিক।

২০০৯ সালের ১৩ মার্চ বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লেগে প্রাণহানি না ঘটলেও বিভিন্ন দোকানের মালামাল পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া রাজধানীর বঙ্গবাজার ও খিলক্ষেতের মধ্যপাড়া এলাকায় টিনশেড আলী মার্কেটে আগুন লেগে বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে যায়।

রাজধানীতে বিভিন্ন মার্কেটে আগুনে পুড়ে শুধু সম্পদের ক্ষতিই নয়, চুড়িহাট্টা, নিমতলীর এবং এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটে। একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত হলেও এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও প্রস্তুতি নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।