SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২০-১১-২০১৯ ০০:১১:২৩

চট্টগ্রামের গলার কাঁটা সিডিএর চার ফ্লাইওভার

ctg-flyover-1

পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চারটি ফ্লাইওভার। বিদ্যুৎ বিলসহ প্রতি মাসে এসব ফ্লাইওভারের পেছনে খরচ হচ্ছে অন্তত ৪০ লাখ টাকা। আর সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়ার দুর্ভোগ তো রয়েছেই। সেই ব্যয় মেটাতে ব্যর্থ হয়ে ফ্লাইওভারগুলো অবশেষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করতে যাচ্ছে সিডিএ।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করেই গত একদশকে নগরীতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছে চারটি ফ্লাইওভার। সরকারের অর্থায়নে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্মিত এসব ফ্লাইওভার বর্তমানে অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারায় অনেক সময় বাতিগুলো যেমন জ্বালানো যায় না। তেমনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই ঘটছে রেলিং চুরির ঘটনা। সেই সঙ্গে পানি নিষ্কাশণ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায় এসব ফ্লাইওভারে।

সিডিএ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, যে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় সেটা নিরূপণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণেই এটা সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। 

সিডিএ কর্মকর্তারা জানান, নগরীর মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এবং চারটি লুপের আকতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল আসছে ১২ লাখ টাকার বেশি। বাকি তিনটি ফ্লাইভারে রয়েছে বিদ্যুৎ বিল সমস্যা। কিন্তু তেমন কোনো বাজেট না থাকায় প্রায়ই অন্ধকারে থাকছে ফ্লাইওভারগুলো। বছর খানেক আগে এ খরচ তোলার জন্য ফ্লাইওভারে টোল বসানোর পাশাপাশি নিচে দোকান ভাড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সিডিএ। কিন্তু উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে সে পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, সিটি কর্পোরেশনের তো বার্ষিক একটা বরাদ্দ দেয় ১০০ কোটি টাকা। এটা তো প্রকল্প করার জন্য দেয়। 

তবে বিদ্যুৎ বিলের সমস্যার সমাধান করতে পারলেও ফ্লাইওভারের জলবদ্ধতাই মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সিটি কর্পোরেশনের কাছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, যত বেশি বৃষ্টি হোক না কেন যেন কোনো পানি আটকে না যায়, যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সেটা নিয়ে আমরা কাজ করব।

নগরীতে কয়েক লাখ যানবাহন চলাচল করলেও এ চারটি ফ্লাইওভার দিয়ে প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার গাড়ি পারাপার হয়।