SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৬-১১-২০১৯ ১০:৫৪:৩৪

নানা রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে শব্দদূষণ

sound-pollution2

শব্দদূষণ বাড়াচ্ছে নানা রোগের ঝুঁকি। গবেষণা বলছে, দেশের বর্তমান শব্দমান মানুষের স্বাভাবিক শব্দ গ্রহণ ক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি। কিন্তু এ দূষণ নিয়ন্ত্রণে নেই কোনো উদ্যোগ। গবেষকরা আইন প্রয়োগে তৎপর হতে বললেও পরিবেশ অধিদফতর বলছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক প্রতিনিয়ত এমন বিকট শব্দে দূষণের শিকার হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। আইন বলছে, হাসপাতাল থাকায় শাহবাগ একটি নীরব এলাকা, কিন্তু এখানেও থেমে নেই শব্দের যন্ত্রণা।

শুধু শাহবাগ নয়, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী সব হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস আদালতের আশপাশের অন্তত ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দদূষণ দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু কে শোনে কার কথা?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪০-৫০ ডেসিবল। পরিবেশ অধিদফতরের শেষ ২০১৭ সালের গবেষণা বলছে, রাজধানীর ফার্মগেটে এর মাত্রা ১৩৫ দশমিক ৬ ডেসিবল। রাজধানীতে সর্বনিম্ন শব্দ মান পাওয়া গেছে উত্তরায়, সেটিও ১০০ দশমিক ৮ ডেসিবল। শব্দদূষণে ঢাকাকেও ছাড়িয়েছে চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রামে দূষণ সর্বোচ্চ ১৩৯.৬, সর্বনিম্ন ১০৩.৯। সিলেটে সর্বোচ্চ ১৩৪.২, সর্বনিম্ন ৮৭। খুলনায় সর্বোচ্চ ১৩৩.২, সর্বনিম্ন ১০৮.৩। বরিশালে সর্বোচ্চ ১৩৬.৮, সর্বনিম্ন ১১৮.৪। রংপুরে সর্বোচ্চ ১৩২.৬, সর্বনিম্ন ৯০.৫। রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ১৩৬.২, সর্বনিম্ন ৯৩.৪। ময়মনসিংহে সর্বোচ্চ ১৩৪.৪, সর্বনিম্ন ৮৫.৬ ডেসিবল।

শব্দদূষণ বৃদ্ধির জন্য নগর পরিকল্পনার ত্রুটি ও আইনের প্রয়োগ না থাকাকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএসএমএমইউ’র নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল হাসান জোয়ারদার বলেন, শব্দ দূষণের কারণে মানুষ ধীরে ধীরে তার শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। 

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামারুজ্জামান বলেন, ঢাকাতে আপনি এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে ৬০০-৭০০ কিলোমিটারের মধ্যে আপনি স্কুল, কলেজ কিংবা হাসপাতাল পাবেন না। তাই জোনিংয়ের ব্যাপারে নগর পরিকল্পনাবিদদের আরও বেশি চিন্তা করতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে শব্দ দূষণ নিয়ে আমাদের এত চিন্তা করতে হত না।

তবে পরিবেশ অধিদফতর বলছে, শব্দ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতাই মুখ্য বিষয়।

পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যাপক জনসচেতনতার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব অটোলজির গবেষণা বলছে, বর্তমানে দেশের মোট জনশক্তির প্রায় ১০ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে বধির।