SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৫-১১-২০১৯ ১৯:০৩:০৫

ছদ্মবেশী খুনির নাম ধরে ডাকতেই গুলি করা হয় সগিরাকে

murder-2

ছিনতাইকারীর ছদ্মবেশে থাকা খুনিকে চিনে ফেলেছিলেন সগিরা মোর্শেদ। নাম ধরে ডেকেওছিলেন। এরপরই তাকে গুলি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী রিকশা চালকের তথ্যে খুলে যায় ৩০ বছর ধরে ঝুলে থাকা মামলার জট। মামলা স্থগিত চেয়ে রিটের সূত্র ধরেই পিবিআই খুঁজে পায় ঐ রিকশাচালককে। এরইমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ৪ আসামি।

১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই ছিনতাইকারীর হাতে খুন হন রাজাবাজারের বাসিন্দা সগিরা মোর্শেদ সালাম। এর প্রায় ৩০ বছর পর গত জুলাই মাসে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এরপর আসামি মারুফ রেজার মায়ের রিটের যোগসূত্র খুঁজতে গিয়েই বের হতে থাকে সগিরা হত্যার রহস্য। এরপর খুঁজে বের করা হয় রিকশা চালককে।

পিবিআই জানায়, এই মামলার তদন্তে নেমে তারা জানতে পারে সগিরা হত্যা মামলা স্থগিত করার জন্য তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসানের ভাগ্নে মারুফ রেজার মা একটি রিট করে। যাতে মামলাটি স্থগিত রাখা হয়। রিকশাচালককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে মারুফ রেজাকে খুনি বলে শনাক্ত করে।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মারুফ রেজার মা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই রিটটি করেছেন। তারা সব সময় চাচ্ছিলেন যাতে এই মামলাটি সামনে না আসে।  

৩০ বছরে বিভিন্ন সংস্থা এবং ২৬ বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও মেলেনি কোনো কুল কিনারা। এমনকি পুলিশ একজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিলেও পিবিআই তার কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি।

পিবিআই প্রধান বলেন, আমরা যে মিন্টু বা মন্টু নামে একজনকে পেয়েছি। তাকে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল, সে যে জড়িত ছিল সেরকম কিছু পাইনি। 

ওই রিকশাচালক জানান, ঘটনার দিন সগিরা খুনিকে চিনে ফেলায় গুলি করা হয় তাকে।

তিনি বলেন, রিকশার সামনে ব্যারিকেড দেয়। বাম হাতের চুরি টানাটানি করতে গেলে ওই মহিলা (সগিরা) বলেন আমি তোমারে চিনি। তার নাম ধরেও ডাকেন তিনি। তখনই গুলি করে। 

পরিবারের দাবি, মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করেছিল আসামিরা। এ জন্য বিভিন্ন সময় চাপ দেওয়া হতো তাদের।

সগিরা মোর্শেদের স্বামী ছালাম চৌধুরী বলেন, ঘনঘন চিরকুট দিতো, সেখানে লিখা ছিল মেয়ে নিয়ে ভালো থেকো বেশি বাড়াবাড়ি করো না। 

আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা পরিবারের।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোপলিটন দক্ষিণের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুজ্জামান সময় নিউজকে বলেন, সগিরা হত্যা মামলায় ওইভাবে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছিল না। তারপরও যতটুকু ছিল সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ৩০ বছর ধরে ঝুলে থাকা এ মামলাটির রহস্য উদঘাটনে আমরা প্রথমে রিকশাওয়ালাকে খুঁজে বের করি। তার কথার সূত্র ধরে গত ১০ নভেম্বর প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা আনাস মাহমুদ রেজওয়ানকে আটক করি। রেজওয়ানও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ১১ নভেম্বর ডা. হাসান আলী চৌধুরী ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহীন, ১৩ নভেম্বর মারুফ রেজাকে আটক করা হয়। চারজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তিনি আরো বলেন, সগিরা হত্যার মূল শুটার মারুফ রেজা। এই বিষয়টি যখন আমরা কনফ্রম হই। সেদিন (১৩ নভেম্বর) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে মারুফকে আটক করি।