SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ১৫-১১-২০১৯ ১৭:০৪:২৭

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমতি দিয়েছে আইসিসি

myan-today-2

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ তদন্তে অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। রোহিঙ্গাদের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বেশ কিছু আইনি চ্যালেঞ্জ থাকলেও, তা অসম্ভব নয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) অনুমোদন দেন নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি। রোহিঙ্গা নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারকগণ এতে সায় দেন। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তের অনুমতি দেন তারা।

এদিকে মিয়ানমারকে বিচারের আওতায় আনতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ থাকার পাশাপাশি সময় সাপেক্ষ হলেও তা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনি চ্যালেঞ্জগুলো উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্তে রাষ্ট্র নয় মূলত অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশেষের দিকে নজর দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে আদালতের প্রক্রিয়া শুরু করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে দায়িত্ব নিতে হবে।

মিয়ানমার আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র না হলেও রোহিঙ্গাদের জোর করে আদালতের সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ায় অনায়াসে মিয়ানমারের বিচার সম্ভব বলে জানান আদালত। আর এটিকে কাজে লাগিয়ে মিয়ানমার সেনা প্রধান ও জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা সম্ভব বলে জানায় এএফপি। এছাড়া, রুয়ান্ডা, লেবানন ও কম্বোডিয়ার ক্ষেত্রে যেভাবে মিশ্র ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল সেই প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা যেতে পারে।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ছাড়াও ইতোমধ্যে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আইসিজে ও আর্জেন্টিনার আদালতেও পৌঁছেছে। মূলত সীমান্ত সমস্যা ও জাতিসংঘ কনভেনশনস লঙ্ঘনের মতো অভিযোগের বিষয়ে কাজ করেন জাতিসংঘের বিচারিক আদালত। ১৯৪৮ সালের গণহত্যা বিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন লঙ্ঘনের দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা করেছে গাম্বিয়া। এর মাধ্যমেও মিয়ানমারের বিচার সম্ভব বলে জানানো হয়।

এছাড়া সবশেষ বুধবার আর্জেন্টিনার আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। যেসব ভয়াবহ অপরাধ শুধু একটি দেশেই সীমাবদ্ধ নয় তা বিচারে যে কোন দেশে বিচারের বিধান রয়েছে। আর এই বৈশ্বিক বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও মিয়ানমারের বিচার সম্ভব।