SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৪-১১-২০১৯ ১৭:১৬:১৯

নতুন নেতৃ‌ত্বের প‌থে যুবলীগ!

jubo-league

যুবলী‌গ নেতাকর্মী‌দের কর্মকাণ্ডে খানিকটা বিব্রত আওয়ামী লীগ। তাই যুবলীগকে ঢেলে সাজাতে নতুন নেতৃত্ব খুঁজছে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড। এবা‌রের স‌ম্মেল‌নে সেই নতুন মুখ দেখার অপেক্ষায় দলীয় নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের জন্য নতুন নেতৃত্ব খুঁজছেন। যারা দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন ও ফ্রেশ ইমেজের পরীক্ষিত নেতার হাতেই যুবলীগের দায়িত্ব দিতে চান তিনি।  

গত ক‌য়েকদিন যুবলী‌গের অ‌ফিস ঘুরে দেখা গে‌ছে, এবা‌রের সম্মেলনকে ঘিরে অন্য সময়ের মতো নেতাকর্মীদের মধ্যে তেমন কোনো উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। তবে ক্লিন ইমেজের নেতারা পদ পাওয়ার আশায় প্রতিদিন নেতাকর্মীদের নিয়ে পার্টি অফিসে যাতায়াত করছেন। যুবলীগের শীর্ষ প‌দে আস‌তে ছোটখাটো শোডাউনও করছেন । এছাড়া পদপ্রত্যাশীরা তা‌দের অনুসারীদের নিয়ে ধানম‌ন্ডি সভাপ‌তির রাজ‌নৈ‌তিক কার্যাল‌য়ে নিয়মিত আসছেন।

আওয়ামী লীগের বৃহত্তর সংগঠন যুবলীগে এবা‌রের স‌ম্মেল‌নে কেমন নেতৃত্ব আসছে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ৭ম কংগ্রেস প্রস্তুত কমিটির সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ সময় নিউজকে ব‌লেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন। ১৯৭২ সালে জাতির পিতার নির্দেশে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন প্রথিতযশা সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করার জন্যই মূলত যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস উপলক্ষে সারা দেশের যুব সমাজের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। কংগ্রেস উপলক্ষে ১১ টি উপকমিটি করা হয়েছে।

এবারের কংগ্রেসে কেমন নেতৃত্ব আসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবা‌র নতুন মুখ আস‌বে ব‌লে আমি আশাবাদী। এখানে কেউ প্রার্থী হন না। অনেকে আলোচনায় থাকার চেষ্টা করেন বা নেতাদের কাছে নিজেকে তুলে ধরেন। আর প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুবলীগের কংগ্রেসে কখনও ভোট হয়নি। স্বভাবত কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নতুন নেতাদের নাম ঘোষণা করেন।

এরই ম‌ধ্যে যুবলীগের শীর্ষ দু‌টি প‌দে আ‌লোচনায় আ‌ছেন, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ ও তার ছোট ভাই ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, বর্তমান কমিটির সদস্য শেখ ফজলে ফাহিম (শেখ সেলিমের ছেলে), যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম,আতাউর রহমান, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন ও ডা. মোখলেছুর রহমান হিরু।

আর সাধারণ সম্পাদক পদে যারা আলোচনায় আছেন, তারা হলেন- বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মনজুর আলম শাহীন, সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলম ও ফারুক হাসান তুহিন, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক শহিদুল হক চৌধুরী রাসেল,  অর্থ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হালদার, ও সহসম্পাদক তাজউদ্দীন আহমেদ। 

এছাড়া যুবলীগকে ঢেলে সাজানো এবং তরুণদের নেতৃত্বে আন‌লে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্য থেকে শীর্ষ পদে জায়গা পেতে পারেন, ইসহাক আলী পান্না, বাহাদুর ব্যাপারী, অজয় কর খোকন, নজরুল ইসলাম বাবু, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। 

এ বিষ‌য়ে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি সময়‌ নিউজকে ব‌লেন, ‘যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে জাতির পিতার নির্দেশে  শেখ ফজলুল হক  মনি যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। যুবলীগের অনেক গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। ২৩ তারিখে যুবলীগের কংগ্রেসে সৎ, ত্যাগী, পরীক্ষিত যাদের ত্যাগ রয়েছে, যারা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে প্রশাসনের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেছে।  ১/ ১১ এর সময় যারা রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনাকে ছেড়ে যায়নি। এবং যাদের সিএস, আরএস রয়েছে, যাদের মধ্যে কোনো ভেজাল নেই এবং দলের প্রতি নেত্রীর প্রতি কমিটমেন্ট রয়েছে সেই ধরনের নেতৃত্বই আমরা প্রত্যাশা করি। 

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম শাহীন সময়‌ নিউজকে ব‌লেন, 'সম্প্র‌তি আমা‌দের সভা‌নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনার শু‌দ্ধি অ‌ভিযা‌নের কার‌ণে দ‌লে ত্যাগী, ‌গ‌তিশীল রাজপ‌থের নেতা‌কর্মী‌দের মধ্য থে‌কেই আস‌ছে যুবলী‌গের শীর্ষ প‌দে। আমা‌কে প্রধানমন্ত্রী যেভা‌বেই মূল্যায়ন করুক না কেন আ‌মি সেই নেতৃত্ব মে‌নে কাজ কর‌বো। দ‌লের পা‌শে ছিলাম আগামী দিনও দ‌লের পা‌শে থাক‌বো, কাজ ক‌রে যা‌বো।'

সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ বদিউল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কর্মীদের হাতে রাজনীতি তুলে দিতে চাচ্ছেন। তিনি সংগঠকদের হাতে সংগঠনের পতাকা তুলে দিতে চাচ্ছেন যাদের রয়েছে দক্ষতা, সততা, ছাত্র রাজনীতি, যুব রাজনীতির গৌরবময় অতীত। লোভ পাপ যাদের স্পর্শ করেনি । যেটি গণ মানুষের প্রত্যাশা । 

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে যুবলীগের সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন ওমর ফারুক চৌধুরী। এরপর ২০১২ সালের সম্মেলনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তিনি। মূলত এরপর থেকেই শুরু ওমর ফারুক চৌধুরীর ক্ষমতার আধিপত্য। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানে যুবলীগের চেয়ারম্যানসহ অনেক নেতাকর্মীর নাম আসে। এমন‌কি যুবলীগ চেয়ারম্যা‌নের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও বি‌দেশ যাওয়ার নি‌ষেধাজ্ঞা আ‌সে। তাই দলের ভাবমূর্তি ফি‌রি‌য়ে‌ আনার পাশাপা‌শি সংগঠন‌টি‌কে আরও গতিশীল করতে সম্মেলন করার নির্দেশ দেন দলের হাইকমান্ড। সেই ধারাবাহিকতায় সম্মেলন তারিখ নির্ধারণ হয় ন‌ভেম্বর এর ২৩ তা‌রিখ।