SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১২-১১-২০১৯ ২২:৫২:৩৪

বান্দরকে লাই দিলে গাছের মাথায় ওঠে, রাঙ্গা প্রসঙ্গে ফিরোজ রশিদ

ranga

শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় নিজ দলের মশিউর রহমান রাঙ্গার কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। তিনি বলেন, একটা কথা আছে, বান্দরকে লাই দিলে গাছের মাথায় ওঠে। এই লাই আমরা দেইনি। এই সংসদ তাকে লাই দিয়েছে। কী ধরনের ব্যক্তিত্ব; যার অতীত নেই-বর্তমান নেই। কিছুই ছিল না। হঠাৎ তাকে মন্ত্রী বানানো হলো। আমরা তো তাজ্জব হয়ে গেলাম।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় রাঙ্গার বক্তব্য জাতীয় পার্টির নয় দাবি করে বলেন, জাতীয় পার্টি এ বক্তব্য ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করছে।

মসিউর রহমান রাঙ্গা প্রসঙ্গে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, তিনি বিরোধী দলের চিফ হুইপ। আমি বললাম, তাজুল ইসলাম চৌধুরী (সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ) মারা গেছেন, আমি বক্তব্য রাখবো। তিনি বললেন, আপনারটা আপনি দেখবেন, আমি কেন নাম পাঠাবো? আমার সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বললেন। আমি যতদিন ধরে রাজনীতি করি, তার বয়সও ততদিন হবে না। তিনি কোথায় আন্দোলন করেছেন? কোথায় সংগ্রাম করেছেন? তিনি যুব দলের নেতা ছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে তিনি কথা বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলার ধৃষ্টতা তিনি কোথায় পেলেন? প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কথা বলেছেন। গণতন্ত্রের ছবক দেন। লেখাপড়া জানেন না, আবার কাগজের মালা গলায় দিয়ে পরিবহন শ্রমিক হয়ে হঠাৎ বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়ে গেছেন। ধৃষ্টতা দেখান তিনি। আর তার জবাব দিতে হয় আমাদের। আসামিদের কাঠগড়ায় আমাদের দাঁড়াতে হয়। এটা সম্পূর্ণ আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে। আমরা দুঃখিত।

তিনি বলেন, ওই বক্তব্য জাতীয় পার্টির বক্তব্য নয়। এটা কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য হতে পারে না। এটা রাঙ্গার নিজস্ব বক্তব্য হতে পারে। ওই বক্তব্যের জন্য জাতীয় পার্টি লজ্জিত, আমরা দুঃখিত এবং আমরা এর জন্য অপমানিতবোধ করছি। আমরা মনে করি, এটা জাতীয় পার্টির বক্তব্য নয়, জাতীয় পার্টি এই বক্তব্য সমর্থন করে না। নূর হোসেন সম্পর্কে তিনি যেটা বলেছেন তা আমরা গ্রহণ করি না। আমাদের দল এটা গ্রহণ করে না। আমরা ঘৃণাভরে এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। এটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, দল এর দায়িত্ব নেবো না।

নূর হোসেনের প্রতি সম্মান জানিয়ে কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, যে যুবক গণতন্ত্রের জন্য তার জীবন দিতে পারেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে সংগ্রাম করতে পারেন, সেই সাহসী যুবকের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা কখনোই এই ধরনের ধৃষ্টতা দেখাইনি। এ ধরনের কথা উচ্চারণ করিনি। কোনও রাজনৈতিক দলের নেতার বক্তব্য এটা হতে পারে না।

এরপর তিনি রাঙ্গাকে উদ্দেশ করে বলেন, লজ্জা করে না এসব কথা বলতে? আমরা তো আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করেছি। আজকের প্রধানমন্ত্রী সেদিন যদি আমার পরিচয় করিয়ে না দিতেন, আমাকে যদি ভোট না দিতেন, নির্বাচিত হয়ে এই সংসদে আসতে পারতাম না। রাঙ্গা সাহেব! মানুষ এত অকৃতজ্ঞ হয় কীভাবে? পেছনে যদি আওয়ামী লীগ না থাকতো, ওই রংপুর নামতেও পারতেন না। কার কয়টা ভোট আছে তা আমাদের জানা আছে। দেশের মানুষ মনে করেন, যতদিন শেখ হাসিনা আছেন, ততদিন গণতন্ত্র টিকে থাকবে। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে। উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।

গত রোববার বিকেলে বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে এভাবেই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ নুর হোসেনকে নিয়ে কটূক্তি করেন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ও সমালোচনা করেন তিনি।

রাঙা বলেন, নুর হোসেন একটা ইয়াবাখোর, ফেনসিডিলখোর ছেলে। তাকে নিয়ে গণতন্ত্রের দুই দল নাচানাচি করছে।

এরই প্রতিবাদে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সভা করেন নুর হোসেনের পরিবার। এসময় তারা জাতীয় পার্টির মহাসচিব রাঙার নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।

আবুল হোসেন বলেন, ওরে বয়কট করা হোক, ওর এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করা হোক।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ক্ষমা চেয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠান মশিউর রহমান রাঙা।