SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১১-১১-২০১৯ ২০:৫৫:৫৯

‘বুলবুলি’র খবর এখনও পাননি বাবা!

bulbul

ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল'-এর দিন শনিবার সন্ধ্যায় মোংলার মিঠাখালী ইউনিয়নের এটিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাইক্লোন সেন্টারে স্বজনদের সঙ্গে আশ্রয় নেন সন্তানসম্ভাবা গৃহবধূ হনুফা বেগম (৩৫)। আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠার এক পর্যায়ে প্রসব ব্যথা ওঠে তার। এরপর খবর পাঠানো হয় স্থানীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণের এক পরিদর্শিকাকে। পরে রাত সোয়া ১টার দিকে এক কন্যাসন্তান জন্ম দেন হনুফা। ঝড়ের রাতে জন্ম বলে উপস্থিত সবাই ঝড়ের নামানুসারে নবজাতকের নাম রাখেন 'বুলবুলি'।

হনুফা পূর্ব মিঠাখালী গ্রামের বায়েজিদ শিকদারের স্ত্রী। বায়েজিদ সুন্দরবনের দুবলার চরে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতের কাজ করেন। এ মাসের শুরুতেই তিনি সেখানে কাজে চলে যান। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সেখানে নেটওয়ার্ক না থাকায় এখনো পর্যন্ত তার স্বামীকে ‘বুলবুলি’র সংবাদ তাকে জানানো যায়নি। এখনো পর্যন্ত নবজাতক ও তার মা হনুফা মিঠাখালী এটিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে।  

হনুফা জানান, তাদের বাড়ি ঘর ও আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। এ কারণে নব জাতককে নিয়ে এখনও আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন তিনি। তার স্বামী বায়জিদ শিকদার পেশায় জেলে। চলতি মাসের প্রথম দিকে শুঁটকি প্রক্রিয়া কাজে শ্রমিক হিসেবে সে সুন্দরবনের দুবলার চরে গিয়েছেন। নবজাতকের খবর তার স্বামী এখনও জানতে পারেনি। ঝড়ে দুবলার চর এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় হনুফা স্বামীর সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করতে পারেনি। এ কারণে সন্তানের জন্মের খবরও জানাতে পারিনি।

ঝড়ের রাতে শিশুটি জন্ম নেয়ার মুহূর্তেই এ খবর চলে যায় দুর্যোগ মোকাবেলায় খোলা উপজেলা কন্ট্রোল রুমে। মোংলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার রাজবংশী ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদুল হাসানসহ অন্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং মা-মেয়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হনুফার হাতে নগদ ২০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।

হনুফা-বায়েজিদ দম্পতির সাত বছর বয়সী আরও এক কন্যাসন্তান রয়েছে। হনুফা বলেন, এখানে সবার সহযোগিতা পেয়েছি। এখন সরকারের কাছে এক টুকরো জমি ও একটি ঘর চাই। দুই মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই। এ সময় 'বুলবুলি'র জন্য সবার কাছে দোয়া চান হনুফা।