SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ০৯-১১-২০১৯ ২১:৩২:৫৮

বাগেরহাটে তিল ধারণের ঠাঁই নেই আশ্রয়কেন্দ্রে

bagerhat

বাগেরহাটের উপকূলীয় শরণখোলা, মোংলা ও মোরেলগঞ্জের বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়প্রার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। শনিবার (০৯ নভেম্বর) সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এসব আশ্রকেন্দ্রগুলোতে ভিড় বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাত যতই ঘনিয়ে আসছে আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। 

সর্বশেষ রাত ৮টা পর্যন্ত বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় ১ লাখ ৫ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। মানুষের পাশাপাশি গবাদীপশু, হাস-মুরগী ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে এসেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। 

তবে মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, মোংলা ও রামপাল উপজেলার ঘূর্নিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ভিড় থাকলেও বাগেরহাট সদর, কচুয়া, মোল্লাহাট, চিতলমারী ও ফকিরহাট উপজেলার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে আশ্রয়প্রার্থী ছিল খুবই কম। এসব উপজেলার কোন কোন আশ্রয়কেন্দ্রে কেউই যায়নি। 

মধ্য সাউথখালী স্কুল কাম ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে দেখা যায় সাড়ে ৭শ’র অধিক লোক আশ্রয় নিয়েছে। যা এর ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ বলে জানান স্থানীয়রা। নানা বয়সী মানুষ ওই আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাসাঠাসি করে রয়েছেন।

পার্শ্ববর্তী চালিতাবুনিয়া আশ্রয়কেন্দ্রেরও অবস্থা একই। সেখানে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা গৃহবধু সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, জীবন বাঁচাতে আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছি। আমি যেমন ছেলে-মেয়ে নিয়ে এসেছি। অন্যরাও তেমন বৃদ্ধ পিতা-মাতাসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে আসছেন। তাই আশ্রয়কেন্দ্রে অনেক ভিড় হয়েছে। তারপরও বিপদের সময় একটু কষ্ট হলেও সবাই মিলে থাকছি।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনার জন্য। জনসংখ্যার তুলনায় আশ্রয়কেন্দ্র কম হওয়ায় একটু চাপাচাপি করে থাকতে হচ্ছে মানুষদের। এর মাঝেও সবাই যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন, আমরা সে অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, জেলার ৩৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে রাত ৮টা পর্যন্ত ১ লক্ষ ৫ হাজার লোক আশ্রয়গ্রহণ করেছেন। আশ্রয় নেওয়া জন সাধারণের জন্য শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। রাতেও কন্ট্রোলরুম চালু থাকবে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।