SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ০৪-১১-২০১৯ ১২:৫৬:৩৪

সাদেক হোসেন খোকাকে নিয়ে আখতারুজ্জামানের আবেগঘন স্ট্যাটাস

imag000

গুরুতর অসুস্থ হয়ে নিউইয়র্কের মানহাটানে মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে নিয়ে ফেসবুক একটি আবেগময় স্ট্যাটাস দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান।

তার স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেয়া হলো-

‘খোকা তুমি ফিরে এস’।

খোকা মনে রেখ নায়ক হতে হলে ভয়কে জয় করতে হবে।

আমাদের নেতা সাদেক হোসেন খোকা সুদূর মার্কিন মুলুকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আজকে হেরে যাচ্ছেন। প্রতিটি মানুষের জীবনের অতি স্বাভাবিক পরিসমাপ্তির নাম মৃত্যু।

খোকা সাহেবের জীবনেও সেই পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে যা কোনো অসম্মানের নয়। কিন্তু একজন রাজনৈতিক নেতা খোকার মৃত্যু বেদনাদায়ক এবং রাজনৈতিক পরাজয়।

খোকার তো এভাবে পরাজিত হওয়ার কথা ছিল না। তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এ দেশের মহান মুক্তিযোদ্ধা, যার অবদান আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ।

খোকার মৃত্যু বিদেশে হতে পারে সেটি কোনো অসম্মানের নয়। কিন্তু মৃত্যুর পর খোকার মরদেহ বাংলাদেশের মাটিতে দাফন হবে না এটি মেনে নেয়া যায় না।

আজকে মৃত্যুর মুখোমুখী হয়ে খোকা সাহেবের এই যে আকুতি, এই যে দুঃখ্য বেদনা, দেশে তার মরদেহ নিয়ে আসার অনুনয় বিনয় বা ছলচাতুরি, তার তো কোনো প্রয়োজন নাই এবং ছিল না।

খোকা তো এখনও বেঁচে আছে এবং ডাক্তার তাকে আরও তিন সপ্তাহ বেঁচে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাহলে দেশের মাটিতে দাফনের আকুতি কেন?

খোকা সাহেব কি পারেন না বা পারলেন না হাসপাতাল থেকে বের হয়ে বিমানের টিকিট নিয়ে সোজা ঢাকা চলে আসতে? জনগণ দেখ তো কে তাকে বাধা দেয়?

অপরাধী মন সব সময় দুর্বল থাকে। যে খোকাকে জনগণ ২০০১ সাল পর্যন্ত চিনতো ও জানতো সেই খোকার পরিবর্তন হয়ে গেছে ক্ষমতার রাজনীতি করার পরে।

মুক্তিযোদ্ধা খোকার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে গেছে ঢাকা মহানগরের মেয়র হয়ে অন্যায় এবং অপরাধের সঙ্গে মিশে গিয়ে। যে খোকাকে জনগণ ভালোবাসতো সেই খোকা জনগণের কাছে ঘৃণিত হয়ে গিয়েছিল মেয়রের ক্ষমতা অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগের কারণে। যার মাশুল দিতে হচ্ছে দেশের মাটির জন্য মৃত্যুর শয্যায় কেঁদে কেঁদে।

এখনও সময় আছে। খোকাকেই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অপরাধীর মত বিদেশের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে নাকি বীরের বেশে দেশে এসে এমন কি জালিমের কারাগারে হলেও নিজের স্বাধীন করা দেশে মৃত্যুকে বীরের মত আলিঙ্গন করে নেবে।

জনগণ খোকাকে ক্ষমা করে দিয়েছে এবং এখনও খোকাকে ভালবাসে। যা ইতিমধ্যেই জনগণ প্রকাশ করেছে।

তাই খোকাকে বলবো-হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে পরাজিত ও কাপুরুষের মত মৃত্যুকে না মেনে নিয়ে ফিরে আসো বন্ধু। দেখ জনগণ তোমার পাশে থাকে কিনা। বন্ধু খোকাকে বলছি- ভুলে যেও না সেই সাহসী বীরদের কথা। ভয়ের পরেই জয় থাকে।

তোমার এখন কিসের ভয় বন্ধু। আসো, চলে আসো, দেশে আসো, জনগণ তোমাকে শেষ বিদায় জানাতে অপেক্ষায়।

জনগণ জীবিত খোকাকে দেশের মাটিতে দেখতে চায়। অপরাধী খোকার মৃতদেহ জনগণ দেশের মাটিতে দেখতে চায় না।

খোকাকে জনগণ ভালবাসে তার প্রমাণ জনগণ জীবন্ত খোকাকে দেখতে চায়। ডাক্তারের আশ্বাস মতো খোকা হয়তো আরও সপ্তাহ দুয়েক বাঁচবে।

তাই খোকার কাছে আমাদের বিনীত আহ্বান- অন্তত শেষ একটি সপ্তাহ দেশের মাটিতে কাটাক। যদি হয় সেটি জালিম শাসকের জেলখানাও হয়, তবু তো সেটা বাংলাদেশের মাটিতে। খোকা তুমি ফিরে এসো।

এদিকে, নিউইয়র্কে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন ক্যানসার আক্রান্ত বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার শারীরিক খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। রোববার ( ৩ নভেম্বর) নিউইয়র্কের মানহাটানে মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে সাদেক হোসেন খোকার শয্যাপাশে তিনি কিছু সময় অতিবাহিত করেন।

সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার দেশে ফেরার পর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

তিনি এবং তার স্ত্রীর নামে মামলা আছে এবং গ্রেফতারি পরোয়ানাও থাকতে পারে (আমি নিশ্চিত নই) কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলে যা জেনেছি, তাদের আগমনের পর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হবে জানান মন্ত্রী। ফেসবুকে এক বার্তায় প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।

শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, নিউইয়র্কে সাদেক হোসেন খোকার পরিবার ‘ট্রাভেল পারমিটেরর জন্য আবেদন করলে আমাদের মিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি এবং তার স্ত্রীর যেহেতু পাসপোর্ট নেই সেহেতু আন্তর্জাতিকভাবে অন্য দেশ থেকে নিজের দেশে ফেরার এটাই একমাত্র ব্যবস্থা। আমি আমাদের নিউইয়র্কের কনস্যুলেটে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি।

বিএনপির এ নেতা ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ১৪মে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যান। তারপর থেকে সেখানেই রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি খোকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ম্যানহাটনের স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। গত ক’দিন ধরে খোকা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বলে জানান তার পরিবার পরিজনরা।