SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ০৪-১১-২০১৯ ০৫:০২:৩৩

৫০ বছর ধরে জরাজীর্ণ ভাড়া বাসায় শুল্ক স্টেশন

sheola

অর্ধশতাধিক বছর ধরে একটি জরাজীর্ণ ভাড়া বাসায় চলছে সিলেটের শেওলা স্থল শুল্ক স্টেশন। ভারতের সেভেন সিস্টারের সঙ্গে যোগাযোগের পথ সহজ হওয়ার কারণে এ শুল্ক স্টেশন দিয়ে দেশীয় পণ্য রফতানির পাশাপাশি ভারতীয় পণ্যও আমদানি হচ্ছে। রাজস্ব আদায় হলেও স্থলবন্দর স্থাপনসহ শুল্ক স্টেশনটি খুঁজে পায়নি নিজস্ব ঠিকানা। তবে শুল্ক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, তিন-চার বছরের মধ্যে সব সমস্যার সমাধানের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সিলেটের বিয়ানীবাজার শেওলা এলাকায় ভাড়া বাসায় চলছে আমদানি-রফতানি কার্যকর্মের শুল্ক আদায়সহ দেশি-বিদেশিদের শুল্কের আনুষ্ঠানিকতা। ব্যাংকের বুথ, বসার কিংবা ওয়াশরুম, স্ক্যানার, ব্যাগেজরুম কিছুই নেই এখানে। শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে এ স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য থাকারও ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ কিংবা প্রযুক্তিগত যোগাযোগের নেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।

সিলেট শেওলা স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের আসা যাওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে ভ্রমণ কর থাকে না। সেক্ষেত্রে তাদের এখান থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বিয়ানীবাজার যেতে হয়, যা যাত্রীদের জন্য খুবই দুর্ভোগের। সেই সঙ্গে এখানে ওয়াশরুমের ভালো সুযোগ-সুবিধা নেই।

১৯৬৫ সালে স্থাপিত শেওলা স্থল শুল্ক স্টেশন। ভারতের আসাম রাজ্যের সুতারকান্দি স্থল শুল্ক স্টেশনের সঙ্গে সুন্দর সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকায় এ পথে পণ্য আমদানি-রফতানিতে আগ্রহী উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা। কিন্তু স্থল বন্দর না থাকায় নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাবেক সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ইন্ডিয়া থেকে পোডাক্ট আমদানির চেয়ে, আমাদের রফতানি অনেক বেশি।

তবে, আশার কথা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শেওলা শুল্ক স্টেশনসহ দেশের ১০টি শুল্ক স্টেশন নির্মাণে একটি কমিটি গঠন করেছে। আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানালেন শুল্ক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা।

সিলেট অঞ্চল কাস্টম্স, একাসাইস ও ভ্যাট-এর কমিশনার গোলাম মুনির বলেন, এই শেওলা ও তামাবিল শুল্ক স্টেশনের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে কী কী লাগবে এর চাহিদা নিরূপরণ করা গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত অর্থবছর এই শুল্ক স্টেশন থেকে আমদানি-রফতানি খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৩৬ কোটি টাকার বেশি। এই পথ দিয়ে প্রতিমাসে হাজারের মতো মানুষ যাতায়াত করে থাকেন।