SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ০১-১১-২০১৯ ১১:১৪:২৯

মাছ চাষে ভাগ্য বদল

maach

উন্নত জাতের মাছ চাষ করে নিজের ভাগ্য বদল করেছেন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দরিয়াবাদ গ্রামের নরেন হালদার (৪৫)। তার দেখাদেখি ওই গ্রামের অনেকেই মাছ চাষের প্রতি ঝুঁকছেন। আর মাছ চাষে সফলতা পাওয়ায় তিনি পেয়েছেন সরকারি স্বীকৃতিও।

পেশায় ফার্নিচারের কারিগর অধিক অর্থ উপার্জনের জন্য ৬ বছর পূর্বে ইয়েমেনে পাড়ি জমানোর জন্য মনস্থির করেন। আর এজন্য তিনি বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ধার দেনা ও সুদে টাকা সংগ্রহ করেন। তবে হঠাৎ করে ইয়েমেনে যুদ্ধ বেধে যাওয়ায় আর বিদেশ যাওয়া হয়নি নরেনের। বিদেশ যেতে না পারলেও, ফেরত পাননি ট্রাভেল এজেন্সিতে জমা দেওয়া টাকা। ফলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরতে থাকেন অনেকটা ফেরারি আসামির মতো। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক মাছ চাষির পরামর্শে একটি পরিত্যক্ত ঘের লিজ নিয়ে শুরু করেন কৈ ও তেলাপিয়া মাছের চাষ। সেই থেকে শুরু। এরপর থেকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি তাকে।

স্ত্রীর সহযোগিতা আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এখন তিনি নাজিরপুরের একজন আদর্শ আর সফল মাছচাষি। স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে লিজ নেওয়া ৭০ শতাংশ জমিতে তার বর্তমানে দু’টি ঘের রয়েছে। এখান থেকে প্রতি তিন মাস পর পর মাছ বিক্রি করেন তিনি। আর এ থেকে প্রতিবারই দুই লক্ষাধিক টাকা লাভ করেন। এছাড়া ঘেরের পাড়ে সবজি উৎপাদন করেও উপার্জন হয় তার। লাভের এ অর্থ দিয়েই তিন মেয়ের লেখাপড়া চালানোর পাশাপাশি সুন্দরভাবে ভরণপোষণ করছেন পরিবারের। আর পরিশোধ করেছেন আগের সব দেনা। 

বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি ক্রেতারা নরেনের ঘের থেকে মাছ কিনে নিয়ে যান। আর নরেনের দেখাদেখি দরিয়াবাদ গ্রামে অনেকেই ঝুঁকছেন মাছ চাষের প্রতি।

তবে নরেন হালদারের দাবি, মাছের খাবারের দাম প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা কিছুটা সমস্যায় পড়ছেন। অন্যদিক সরকার মাছ চাষিদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে, মাছ চাষ দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাবে।