SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২৬-১০-২০১৯ ১০:৫৪:০৩

ফেনীতে আ.লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন, পদ্মা সেতুর আদলে মঞ্চ

feno

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শনিবার (২৬ অক্টোবর) ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ফেনী থেকেই শুরু হচ্ছে জেলা পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের সম্মেলন। এ উপলক্ষ্যে শহরের প্রবেশপথ মহিপাল থেকে সম্মেলনস্থল পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে সারি সারি তোরণ। শহরজুড়ে করা হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা। অতিথিদের ছবি সংবলিত বিলবোর্ড টানানো হয়েছে শহরজুড়ে। শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শহীদ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ সাজানো হয়েছে। ‘উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’ শ্লোগান সংবলিত ফেস্টুন লাগানো হয়েছে ট্রাংক রোডের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে সরকারি কলেজ গেইট পর্যন্ত।

সম্মেলনস্থল সাজানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন সাজে। ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পদ্মা সেতুর অবয়বে তৈরি করা হয়েছে বিশালাকৃতির মঞ্চ। মঞ্চের পাশে রাখা হয়েছে দলের সাবেক নেতাদের প্রতিকৃতি। ১১টি এলইডি প্রজেক্টরে সম্মেলনস্থলে উপস্থাপন করা হবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস এবং সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের চিত্র। মঞ্চের সামনে দেয়া হয়েছে ১৬ হাজার চেয়ার।

আজ বিকাল ৩টায় দলীয় পতাকা, বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করবেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এরপর কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ, শোকপ্রস্তাব, সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পেশ, অতিথিদের বক্তব্য এবং সর্বশেষ সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রথম অধিবেশন শেষ হবে। শেষে সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এ্যাসেম্বলী হলে কাউন্সিল অধিবেশন ও ভোটাভুটিতে নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে বেশ কিছুদিন ধরে সম্মেলনকে ঘিরে নয়া নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা থাকলেও বৃহস্পতিবার মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার পর সাধারণ সম্পাদক পদে জেলার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী বহাল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায়। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি আবদুর রহমান বি.কম ছাড়াও সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট আকরামুজ্জামান, সহ-সভাপতি পিপি হাফেজ আহম্মদ ও জিপি প্রিয়রঞ্জন দত্ত প্রার্থী হলেও তা অনেকটা নিজাম হাজারীর পছন্দের উপরই নির্ভর করছে।

২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনেও নিজাম হাজারী সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তার সমর্থনেই আবদুর রহমান বি.কম সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া পুরো কমিটিতে প্রাধান্য ছিলো নিজাম হাজারীর পছন্দ।

নেতাকর্মীরা জানান, ফেনীতে আওয়ামী লীগের অতীতে কোন সম্মেলন কিংবা আয়োজন দেখেননি। এবারের সাজসজ্জায় তারা মুগ্ধ। বিশেষ করে পদ্মা সেতুর আদলে মঞ্চ তৈরি করায় অনুষ্ঠানে বাড়তি মাত্রা যোগ হয়েছে। এছাড়া সাজসজ্জা ও প্রচারাভিযানে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ফুটে উঠেছে।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুর হোসেন বলেন, সম্মেলনের জন্য ২৬৬ জনকে কাউন্সিলর নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের তত্ত্বাবধানে এ্যাসেম্বলী হলের তিনটি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে। এজন্য ব্যালট পেপারসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

সম্মেলন আহবায়ক কমিটির সদস্য সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল বলেন, সম্মেলনে নেতৃত্ব নিয়েই নেতাকর্মীদের আগ্রহ বেশি থাকে। সভাপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হলে ভোটাভুটি নাও হতে পারে। তবে প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে কাউন্সিলরদের সাথে যোগাযোগ করছেন। নেতাকর্মীদের মাতিয়ে তুলতে জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী ও ব্র্যান্ড শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।

মঞ্চ সাজসজ্জা উপ-কমিটির আহবায়ক জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইফতেখার ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতুর আদলে মঞ্চ সারাদেশের মধ্যে এটিই প্রথম। সম্মেলনের এই মঞ্চ তৈরি করায় নেতাকর্মীরাও দারুণ উৎফুল্ল। এছাড়া সম্মেলন মাঠে ৫ হাজারের বেশি বেলুন উড়ানো হবে বলে তিনি জানান।

শৃঙ্খলা উপ-কমিটির সদস্য জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আশ্রাফুল আলম গীটার বলেন, সম্মেলনের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে ২৩০ জন নেতাকর্মী কাজ করবেন। এছাড়া মঞ্চের বিশেষ নিরাপত্তায় স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করবেন।

আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এ.কে শহীদ উল্যাহ খোন্দকার বলেন, শীর্ষ পদ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। পদপ্রত্যাশীরা ঐক্যমতে পৌছতে না পারলে কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন হবে।

প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাহার উদ্দিন বাহার বলেন, সম্মেলনের প্রবেশপথে পৌরসভা সংলগ্ন স্থানে বঙ্গবন্ধু প্যভিলিয়ন তৈরি করা হয়েছে। এখানে জাতির জনকের আত্মজীবনী, অসমাপ্ত আত্মজীবনী, আওয়ামীলীগের ইতিহাস, ৬ দফার ইতিহাস, স্বাধীণতা ও মুক্তিযুদ্ধ সহ ২শতাধিক বই সংগ্রহ করা হয়েছে।

সম্মেলন স্থলের বিপরীতে ফেনী পাবলিক লাইব্রেরির সামনে স্বাস্থ্য ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। ক্যাম্পে চিকিৎসকের পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে কাজে লাগে এমন সব ধরনের ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে। রাখা হয়েছে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স। ১২ চিকিৎসকের সমন্বয়ে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর পক্ষ থেকে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।