SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২৩-১০-২০১৯ ০৭:১৫:৩৮

ফেনীর নুসরাত হত্যার রায় বৃহস্পতিবার

nusrat-verdi1

ফেনীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখন্ডন শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। আইনজীবীদের দাবি, ইতিহাসে এতো অল্প সময়ের মধ্যে কোনো মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ হয়নি। আর মামলার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা আইনজীবী ও নুসরাতের পরিবারের। এদিকে, রায় ঘরে অপ্রতিকর ঘটনা এড়াতে আদালতসহ ফেনীতে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে।

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলার সাড়ে ৬ মাসের মাথায় এ রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। নিজ মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের শরীরে আগুন দেয়া হয়। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মারা যায় সে। ঘটনার পর ৮ এপ্রিল আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন নুসরাতের ভাই নোমান।

শুরুতে থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে মামলা পিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়।

গত ১০ জুন মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেয়ার পর মাত্র ৬১ কার্যদিবসে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ অক্টোবর। ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এতে করে সব আসামির অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছেন বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির। সে জন্য সব আসামির মৃত্যুদণ্ড হবে এমনটাই আশা বাদীপক্ষের আইনজীবী ও নুসরাতের স্বজনদের।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। যারা নারীকে দাহ্য পদার্থ দিয়ে হত্যা করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আশা করি এ মামলার আসামিরা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, এই রায়ের মধ্যে দিয়ে যেন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়। যাতে আর কোনো বোন প্রতিবাদ করতে গিয়ে হত্যা না হয়।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নুর দাবি, বাদী পক্ষ আসামিদের অপরাধ প্রমাণ করতে পারেনি।

এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবী।

ফেনীর একই আদালতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টার ঘটনায় করা করা নুসরাতের মা শিরীন আক্তারের মামলাটিও বিচারাধীন রয়েছে।