SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১২-১০-২০১৯ ০১:২৫:৪৩

টাকা ছাড়া মিলছে না ‘জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের বাড়ি’

mada-poor

হতদরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়নের বিশেষ প্রকল্পে, ঘর বরাদ্দে মাদারীপুরে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্বজনপ্রীতি করে জনপ্রতিনিধিদের কাছের মানুষদের দেয়া হয়েছে হতদরিদ্রদের নামে বরাদ্দকৃত ঘর, এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অনেকে আবার মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিয়েও পাননি এ সুবিধা। এমতাবস্থায় বিষয়টি বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সুধীজনেরা।

'জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ' প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় মাদারীপুর জেলায় গত দুই অর্থবছরে ১ হাজার ৫শ ঘর তৈরির বরাদ্দ আসে। নির্দেশনা রয়েছে বিনামূল্যে সরকারের পক্ষ থেকে হতদরিদ্রদের এসব ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে। অথচ, জেলার সদর, শিবচর, কালকিনি ও রাজৈর উপজেলায় ঘর নির্মাণ ও বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ ঘর প্রতি ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আদায় করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। যারা টাকা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের ঘরের নামের তালিকা বাদ দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছের মানুষদের এসব ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, আমাদের ঘর নেই। একটা ঘর পেলে শান্তি মতো থাকার ব্যবস্থা হতো আমাদের। ম্যম্বার এসে বলেছেন ৩০ হাজার টাকা দিলে ঘর পাবো। 

প্রধানমন্ত্রীর এ বিশেষ সুবিধা থেকে বাদ পড়েছেন অসহায়, প্রতিবন্ধী, দিনমজুরসহ সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষেরা। তাই, ঘর বরাদ্দ ও নির্মাণের অনিয়মের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সুধীজনেরা।

মাদারীপুরের বিশ্লেষণ সামাজিক আন্দোলনের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টি যাচাই বাছাই শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্খা নেয়া উচিত। 

অবশ্য, অভিযোগ পেলে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয় জেলা প্রশাসন।

এ প্রসঙ্গে মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আহ্জারুল ইসলাম বলেন, এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

প্রকল্পের সাথে জড়িত সদর, শিবচর, রাজৈর ও কালকিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।