SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১০-১০-২০১৯ ২১:০১:২৬

মায়ের স্বপ্ন ছিলো আকাশ তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেবেন

akash2

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ যে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছেন, তার মধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলার দোঁগাছী গ্রামের আতিকুল ইসলামের ছেলে মেধাবী শিক্ষার্থী আকাশ হোসেনের নামও রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে তার মা নাজমা বেগম জানান, আকাশ যদি অপরাধী হয়, তাহলে তার শাস্তি হোক, আর যদি অপরাধী না হয়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে খুব দ্রুত তাকে ছেড়ে দেওয়া হোক। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দরিদ্র ভ্যান চালক আতিকুল ইসলামের ৩ সন্তানের মধ্যে আকাশ সবার বড়। তার এক বোন মরিয়ম (১৫) স্থানীয় দোঁগাছী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম ও ছোট ভাই ইয়ামিন (১৩) একই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।  

আকাশ দোঁগাছী আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে দোঁগাছি উচ্চ বিদ্যালয় হতে ২০১৪ সালে গোল্ডেন প্লাস নিয়ে পাশ করে জয়পুরহাট সরকারি কলেজে ভর্তি হন। আর সেখান থেকেই ২০১৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ প্লাস পেয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। কিন্তু এরপরই আকাশের উচ্চতর শিক্ষা অর্জন নিয়ে দেখা দেয় সংশয়।

সেই সময়ে দরিদ্র ভ্যান চালক বাবা পরিবারের সদস্যদের জন্য দু’বেলা দুমুঠো ভাত যোগার করতেই যেখানে হিমশিম খাচ্ছিলেন, সেখানে আকাশকে কিভাবে পাঠাবেন উচ্চ শিক্ষা অর্জনে ভাল কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে? এরপরও শত বাধা উপেক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষায় সবকটিতেই চান্স পেলেও তখন তিনি বুয়েটেই ভর্তি হন। এরপরই আকাশ হোসেন আকাশ-সমান স্বপ্ন দেখেন ভাল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে চাকুরি করে পরিবারের ছোট ভাইবোন ও মা-বাবার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেবেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস ৩য় বর্ষ না পেরুতেই আকাশ আজ তারই সহপাঠি আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার এজাহারনামীয় আসামী। 

জয়পুরহাটের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী আকাশ হোসেনের মা নাজমা বেগম অনেকটা কান্না জড়িত কন্ঠে সময় সংবাদ কে বলেন-‘আমার সন্তান যদি সত্যিই এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিচার হোক। আর যদি না থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে খুব দ্রুত আমার কলিজার টুকরাকে আমার বুকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।' 

এ ব্যাপারে আকাশের প্রতিবেশী বকুল হোসেন, তারেক মিয়া, ডলি ও মারুফাসহ অনেকেই জানান, আকাশ দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এক মেধাবী ছেলে। সে কখনো হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারে না। সে হয়তো ভুলের শিকার হয়ে ফেঁসে গেছে।