SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৪-০৯-২০১৯ ১৩:০৪:৪৩

সাতদিনে এনআইডি পেত রোহিঙ্গারা

rohi-today-2pm1

নির্বাচন কমিশনের গোপনীয় এবং অতিগুরুত্বপূর্ণ ফরম-টু জালিয়াতির মাধ্যমেই ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাত্র ২১ দিনেই এনআইডি কার্ড পেয়েছে রোহিঙ্গারা। শুধু তাই নয়, বাড়তি টাকা দেয়া হলে জরুরি হিসাবে ৭ দিনেই কার্ড পাওয়া যেত। তবে জরুরি কার্ড ঢাকা এনআইডি সার্ভারের পরিবর্তে প্রিন্ট করা হতো চট্টগ্রামের জয়নাল আবেদীন কিংবা মোস্তফা ফারুকের বাসায়। আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী এবং দুদক ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে এসব তথ্য।

রোহিঙ্গাদের এনআইডি কেলেঙ্কারির ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৭ আসামিকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একাধিক টিম। আর জিজ্ঞাসাবাদে বের হয়ে আসছে চমকে ওঠার মতো সব তথ্য। ২০১৪ সাল থেকেই রোহিঙ্গাদের এনআইডি সার্ভারে ঢোকানোর প্রবণতা শুরু হয়। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রোহিঙ্গা ঢলের পর ২০১৮ সালের শুরু থেকে তা ব্যাপক রূপ নেয়।

বাংলাদেশি আবেদনকারীরা যেখানে এনআইডি কার্ড পেতে ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগতো। সেখানে রোহিঙ্গারা এসব দালালদের মাধ্যমে মাত্র ২১ দিনেই কার্ড পেয়েছে। এছাড়া জরুরি হিসেবে চিহ্নিত কার্ডগুলো ৭ দিনেই পেয়ে যেত তারা।

তবে তার জন্য বাড়তি ১৫ হাজার টাকা খরচ করতে হতো। ঢাকা এনআইডি সার্ভারের আইকনিক পিন নম্বর ব্যবহার করে চট্টগ্রামে নিজ নিজ বাসা থেকে প্রিন্ট নিতেন জয়নাল এবং মোস্তফা ফারুক।

সিএমপি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের তদন্ত কর্মকর্তা রাজেশ বড়ুয়া বলেন, 'সত্য সাগর সার্ভার থেকে পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে জয়নালের কাছে ইমেইলে পাঠাতো।'

মূলত নির্বাচন কমিশনের গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ফরম-টু জালিয়াতি করেই রোহিঙ্গারা এনআইডি কার্ড পেয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক। সাধারণ আবেদন পাওয়ার পর উপজেলা অনুযায়ী নির্ধারিত ফরম-টু পূরণ করে তা নির্বাচন কমিশনের বিশেষায়িত স্ক্যানারে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে সার্ভারে সংযুক্ত করা হতো।

ফরম টু'র দ্বিতীয় পাতায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাক্ষরসহ বেশ কিছু তথ্য থাকতো। কিন্তু চক্রটি খালি একটি পাতা স্ক্যান করে সার্ভারে সংযুক্ত করতো।

চট্টগ্রাম দুদক উপ পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বলেন, 'সেন্ট্রাল সার্ভারের দায়িত্বে যে কর্মকর্তারা ছিলো তাদের যোগসাজশ ছাড়া একটি এনআইডিও প্রিন্ট হওয়া সম্ভব না।'

এদিকে ফরম টু জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্ত ঢাকা এনআইডি সার্ভারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। শাহনূর, সত্য সুন্দর দে এবং সাগর ছাড়াও আরো বেশ কিছু নাম পেয়েছে অনুসন্ধানকারী দল।

চট্টগ্রাম দুদক উপ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, 'আমরা এখন দেখবো ঢাকার কোনো কর্মকর্তা ফরম টু আপলোড করে। এই প্রক্রিয়ায় কারা কারা আছে সেটা আমরা ট্রেস করছি।'

এখন পর্যন্ত এ ঘটনার সাথে জড়িত নির্বাচন কমিশনের অফিস সহায়ক, প্রকল্পের কর্মচারী এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা আইনের আওতায় এসেছে। নজরদারিতে থাকা বাকি কর্মকর্তারাও দু'একদিনের মধ্যে আইনের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট এবং দুদক কর্মকর্তারা।