SomoyNews.TV

পশ্চিমবঙ্গ

আপডেট- ০৫-০৯-২০১৯ ১৯:৪২:১২

ধসের ভয়ে বহু স্মৃতির সাক্ষী বাড়ি ছাড়লেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী!

tapos-1

ধসে যাওয়ার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী। তাপস রায় নামে ওই প্রতিমন্ত্রী উত্তর কলকাতার বউবাজার এলাকার বাসিন্দা।

সম্প্রতি সেখানে মেট্রো রেলের কাজের ফলে বেশ কয়েকটি বাড়ি ধসে পড়ে। প্রায় ৫০টির মধ্যে বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ বলেও বাড়ির বাসিন্দাদের অন্য জায়গায় সরিয়েও নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এবার ওই এলাকার প্রাচীন বাসিন্দা রাজ্য সরকারের ওই মন্ত্রীকেও তার নিজের বসতবাড়ি ছাড়তে হলো। মন্ত্রীর বর্তমান ঠিকানা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী আবাসনে পার্ক সার্কাস এলাকা।

তাপস রায় ১০৫ বিপীণবিহারি স্ট্রিটের বাসিন্দা। স্কুল জীবন থেকেই থাকেন সেখানে। স্ত্রী, কন্যা এবং ছেলেসহ তার জীবনের বড় অংশ ওই বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে কেটেছে। বুধবার (০৪ সেপ্টেম্বর) তাকে জানানো হয়, ওই বাড়িটি ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। তাই সেই বাড়িতে তাকে থাকা চলবে না।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ফোন করেন তাপস রায়কে। এমনকি রাজ্যের আবাসন দফতরের মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস দফায় দফায় ফোন করে মন্ত্রী তাপস রায়কে বাড়ি ছাড়তে বলেন। এরপরই বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার মধ্যে বাড়ি ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন প্রতিমন্ত্রী। বিকেলে সাড়ে চারটায় নতুন ঠিকানায় ওঠেন তাপস রায়।

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজ চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। কলকাতার মাটির নিচ দিয়ে সেই রাস্তা খোঁড়ার কাজ শেষ হওয়ার পর সেখানে ট্যানেল তৈরির কাজ চলছিল। দু’দিন আগে গঙ্গার প্রবল জোয়ারের ফলে টালের অভ্যন্তরে প্রবল জলের চাপ সৃষ্টি হয়। আর এতেই বিপত্তি বাধে।

ইতিমধ্যেই একটি বাড়ি পুরোপুরি ধসে পড়ে এবং প্রায় শতাধিক বাড়ির দেওয়ালের ফাটল এবং চিরখায়। পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেট্রো কর্তৃপক্ষ আপাতত কাজ বন্ধ রেখেছেন। এমন কি বউবাজার এলাকার দৌড় দে স্ট্রিটের প্রায় তিন শতাধিক মানুষকে কলকাতা একাধিক আবাসিক হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকারও।

বুধবার সেখানে মেট্রো রেলের ইঞ্জিনিয়াররা পরিদর্শন করেন। যদিও নতুন করে আর কোনও ধসের ঘটনা ঘটেনি। তবে আশঙ্কায় আছেন বহু স্থানীয় বাসিন্দা।

ইতিমধ্যেই মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। কলকাতা পৌরসংস্থার পক্ষ থেকেও বেশ কিছু বিষয়ে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনিও বেশ কয়েকবার বউবাজার এলাকা ঘুরে দেখেন। দু’দিন আগে সেখানে গিয়ে মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি করেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।