SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২২-০৮-২০১৯ ২১:১৯:৪৯

‘বাবা আমার আম্মুর পায়ে ও হাতে রশি দিয়ে বেঁধেছিল’

narayanganj

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার আলী সাহারদী এলাকায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার বর্ষাকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।  

নিহত বর্ষার সাড়ে চার বছরের সন্তান জান্নাতুল ফেরদৌস নিঝারের মুখ থেকে বেরিয়েছে বোমা ফাটানোর মতো এমন তথ্য, যা সবাইকে বিস্মিত করেছে। সময় নিউজের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সেই তথ্য।   

হত্যাকাণ্ডের পরপর বর্ষার স্বামীর বাড়িতে গিয়ে বর্ষার মেয়ে নিঝারকে দেখতে পাননি স্বজনদের কেউই। বাড়িতে লাশ দেখতে নিকট আত্মীয়-স্বজনরা ও প্রতিবেশীরা এসে বাড়িতে ভিড় করলেও ওই বাড়িতে ছিলেন না বর্ষার শ্বশুর বাড়ির কোনো লোকজন। হত্যাকাণ্ডের পরই নয়নের বাবা মা ও ছোট ভাই বোন গা ঢাকা দেন। ঘটনার পরদিন সকালে সদরের জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বর্ষার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে মেয়ে নিঝারকে সবাই খুঁজতে শুরু করেন। বর্ষার শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে ফোন করলেও কেউই ফোন রিসিভ করেননি।

দাফনের আগে মায়ের লাশ শেষবারের মতো দেখানোর জন্য বর্ষার পরিবারের স্বজনরা নানাজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে শেষ পর্যন্ত শ্বশুর বাড়ির লোকজন মায়ের লাশ দেখানোর জন্য মাত্র পনেরো মিনিট সময় দেন। সেই শর্ত অনুযায়ী বর্ষার ছোট মামা তাদের সাথে কথা দেন লাশ দেখিয়ে নিঝারকে দাদা দাদীর কাছে ফেরত দেবে। তবে ঘটনা মোড় নেয় ওইখানেই। চাঞ্চল্যকর তথ্য তখন অপেক্ষা করছে। 

বর্ষার মামা শাহাদাৎ হোসেন সময় নিউজকে জানান, বর্ষার মেয়েকে ওই বাড়ির লোক মারফত আমার কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়। শর্ত ছিল মায়ের লাশ দেখিয়ে পনেরো মিনিটের মধ্যে নিঝারকে তাদের কাছে বুঝিয়ে দেব। সেই শর্ত অনুযায়ী বর্ষার শ্বশুর বাড়ির এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিঝারকে আমার হাতে তুলে দেয়া হয়। তবে ওই বাড়ির কয়েকজন আমার পিছু নেয়। 

শাহাদাৎ হোসেন বলেন, নিঝারকে আমাদের বাড়িতে এনে তার মায়ের লাশ দেখানো মাত্র মেয়েটি কান্না শুরু করে এবং আমাকে এমন কথা বলে, যা শুনে আমি কথা বলার মতো শক্তি হারিয়ে ফেলি। আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে নিঝার বলতে থাকে, ‘বাবা আমার আম্মুররুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।’

শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বাচ্চা মেয়েটি যখন আমাকে এসব কথা বলছিল তখন সঙ্গে সঙ্গে বর্ষার শ্বশুর বাড়ির ওই লোকগুলো নিঝারকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় এবং বলে পনেরো মিনিট সময় শেষ। ওকে নিয়ে যেতে হবে। এরপর তারা নিঝারকে নিয়ে যায়। 

বর্ষার মেয়ে নিঝারের মুখ থেকে এসব কথা বেরিয়ে আসার পর বিষয়টি স্বজনদের মাধ্যমে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি বন্দর থানার ওসিকে জানানো হয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে বর্ষা হত্যা মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে আসামিপক্ষ নানা কৌশল অবলম্বন করছে বলে সময় নিউজের কাছে অভিযোগ করেছেন নিহত বর্ষার পরিবারের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, বর্ষার মরদেহের সুরতহাল ও ময়না তদন্তে স্পষ্ট প্রকাশ পেয়েছে যে, তার গলায়, হাতে, পায়ে ও পিঠে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ক্ষত চিহ্নের আলামত পাওয়া গেছে। সেসব আলামত অনুযায়ী মোটামুটিভাবে বলা যায় বর্ষাকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তাছাড়া মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও ছোট বোন মীমকে মোবাইলের ইমোতে ভিডিও কল করে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলার সময় স্বামী নয়নের নির্যাতনের কথা বর্ণনা করে গেছে বর্ষা।

বোনের লাশ দেখতে এসে মীম ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়টি বর্ণনাও করেছে। তবে এখন বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। হত্যাকান্ডকে আত্মহত্যা বলে চালানোর অপচেষ্টা চলছে বলে বর্ষার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম সময় নিউজকে বলেন, মামলাটি বিভিন্ন পর্যায় থেকে আমার গভীরভাবে তদন্ত করছি। বর্ষার মেয়ের বক্তব্যের বিষয়টিও আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এর পাশাপাশি হুমকিও বিষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখছি।

তিনি আরো বলেন, আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি এবং তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মামলার তদন্তের সার্থে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।