SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ২১-০৮-২০১৯ ১৬:৫১:১০

‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রি হবে না’ বলায় সফর বাতিল করলেন ট্রাম্প

greenland

বরফে আচ্ছন্ন একটি দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ হিসেবেও পরিচিত। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা কেনার প্রস্তাব দেয়ায় দ্বীপটি আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে, ট্রাম্পের প্রস্তাবকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসন।

গ্রিনল্যান্ড। উত্তর আটলান্টিক ও উত্তর মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। যার ৮৫ শতাংশ এলাকা বরফে আচ্ছন্ন। বিশুদ্ধ পানি, সামুদ্রিক মাছ ও নানা মূল্যবান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দ্বীপটি ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। অষ্টাদশ শতকে প্রায় ২২ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপটিতে নিজেদের উপনিবেশ গড়ে তোলে ডেনমার্ক। স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের হাতে থাকলেও বাকি বিষয়গুলো পরিচালনায় স্বাধীনতা ভোগ করে স্থানীয় সরকার।

সম্প্রতি দ্বীপটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিজের পারিবারিক আবাসন ব্যবসার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই দ্বীপটা ডেনমার্কের জন্য একটি অর্থনৈতিক বোঝা। এর জন্য প্রতি বছর তারা ৭০ কোটি মার্কিন ডলার ভর্তুকি দিচ্ছে। খুব ভালো হতো যদি তা কেনা যেতো। দ্বীপটি ঘিরে বিশাল আবাসন পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

এমন আগ্রহের পর থেকেই হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন ট্রাম্প। 
গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ দাবি করে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প যা বলেছেন তা হাস্যকর। এটা কখনোই হবে না, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্যে নয়। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে চাই তিনি ঠাট্টা করেছেন।

তবে, ট্রাম্পের আগ্রহকে শুধুমাত্র হাসির বিষয় হিসেবে দেখতে নারাজ গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কিম কিয়েলসেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি মোটেও স্বাভাবিক নয়। এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর।

কয়েক দশক আগে ডেনমার্কের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডে বিমান ঘাঁটি করে যুক্তরাষ্ট্র। আর নতুন করে দ্বীপটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর মেরু অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এদিকে, দ্বীপটি বিক্রি করতে আগ্রহ না দেখানোয় আগামী মাসে ডেনমার্কে রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করেছেন ট্রাম্প। রানি দ্বিতীয় মারগ্রেথ-এর আমন্ত্রণে দোসরা সেপ্টেম্বর দেশটিতে যাওয়ার কথা ছিল তার। 

ট্রাম্পের আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ১৯৪৬ সালে দ্বীপটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেসময় গ্রিনল্যান্ডের বিনিময়ে ডেনমার্ককে ১০ কোটি ডলার দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে, তখনও সে প্রস্তাব প্রত্যাখান করে ডেনমার্ক।