SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ২০-০৮-২০১৯ ২১:৫২:০৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়, সাফ বলে দিল ইরান

javed-zarif

পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই বলে আবারো জানিয়েছে তেহরান। ইরানের ট্যাঙ্কার আটক করা হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে তারা।

এদিকে, জিব্রাল্টার কর্তৃপক্ষের কাছে আটক ইরানি ট্যাঙ্কারটি ছেড়ে দেয়া দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ট্যাংকারটিকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দেয়া থেকে বিরত থাকতে গ্রিস সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

জিব্রাল্টার কর্তৃপক্ষের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া ইরানি পতাকাবাহী গ্রেস-ওয়ান তেল ট্যাঙ্কারের নতুন নাম দেয়া হয়েছে 'আদরিয়ান দারিয়া-১। পুরানো নামে পানামায় নিবন্ধন ছিল জাহাজটির। তবে দেশটির আপত্তির কারণে নতুন নিবন্ধনে এ নাম দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। ২১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী এ ট্যাংকারটি গ্রিসের একটি বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে। তবে সব রকম চেষ্টা চালিয়েও জিব্রাল্টার থেকে ট্যাংকারটি'র মুক্তি বাধাগ্রস্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার গ্রিসকে ধরেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানি ট্যাংকারটিকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করার ব্যাপারে দেশটিকে সতর্ক করেছে তারা।
সোমবার ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইরানি সুপার ট্যাংকারটির মুক্তিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। বলেন, তেলবাহী জাহাজটির মুক্তি পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

তেলবাহী ট্যাঙ্কার মুক্ত হওয়ার পর ইরান আলোচনায় বসতে আগ্রহী হবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন আশা প্রকাশ করলেও তাতে পানি ঢেলে দিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। সোমবার হেলসিংকিতে ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জারিফ বলেন, নতুন পরমাণু চুক্তির লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে মোটেই আগ্রহী নয় ইরান।

জাভেদ জারিফ বলেন, চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রই আগে সরে গেছে। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজেও ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। কাজেই মার্কিন সরকারকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে ওই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করে পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসতে হবে।

গেলো চৌঠা জুলাই জিব্রাল্টার প্রণালীর আন্তর্জাতিক পানিসীমা থেকে গ্রেস-ওয়ান নামের ২১ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ইরানি ট্যাংকার আটক করে ব্রিটিশ নৌবাহিনী। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্রিটিশ পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাংকার আটক করে ইরান। ইরানি ট্যাঙ্কারের মুক্তি মিললেও ব্রিটিশ ট্যাঙ্কারের মুক্তির বিষয়টি ইরানের আদালতের হাতে বলে জানিয়েছে তেহরান।