SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ২০-০৮-২০১৯ ১৭:৩২:০৫

হংকংয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় সম্মত প্রশাসন

hk-govt-jpg-2

হংকংয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে অঞ্চলটির প্রশাসন। আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হংকংয়ের শাসক ক্যারি লাম। তবে শান্তিপূর্ণ সমাধান না হলে তা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের জন্য ক্ষতির কারণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের নিন্দাও জানান। এ অবস্থায় বিক্ষোভ নিয়ে গুজব ছড়ানোর দায়ে এক হাজারের বেশি চীনা ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘ কয়েক মাসের বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়েছে হংকং। মন্দা দেখা দিয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। নেই বিনিয়োগও। যার সামগ্রিক প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে।

এক ব্যবসায়ী বলেন, জুন মাসে আমাদের অন্তত ২০ শতাংশ বেচা-বিক্রি কমেছে। জুলাইতে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। আসছেন না পর্যটকরাও। সব মিলিয়ে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছি।

আরেকজন বলেন, এখন আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে পড়ার দশা। হংকং একটা মৃত শহরে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ অর্থ ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন। চারিদিকে কেবল প্রতিবাদের ঝড়।

যদিও সমাধানে এবার উদ্যোগী হয়েছে হংকং প্রশাসন। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অঞ্চলটির প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম জানান, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান তারা।

হংকং প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম বলেন, বহু মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। আমরা তাদের কথা শুনতে চাই। এর মাধ্যমে মতবিরোধ কমে আসবে, হংকংয়ের জন্য একটা সঠিক পথ বের হবে। আপাতত এটাই সরকারের লক্ষ্য।

সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান না হলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের জন্য তা ক্ষতির কারণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, বেইজিংকে অবশ্যই বিক্ষোভকারীদের সম্মান দিতে হবে। দুই পক্ষের মধ্যে পার্থক্য ঘুচাতে হবে। এ আহ্বান মার্কিন প্রেসিডেন্টও জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান থেকে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে চীনের সঙ্গে আমাদের চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও হংকংয়ের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, হংকংয়ে যা ঘটছে, তাতে আমরা নজর রাখছি। কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাবো, তারা যেন শান্তি বজায় রাখে এবং বিক্ষোভকারীদের উপর চড়াও না হয়। কানাডার প্রায় তিন লাখ নাগরিক হংকংয়ে বাস করেন। যা ওই দেশে বসবাস করা বিদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ। আমরা তাদের নিরাপত্তা উদ্বিগ্ন। চীনকেও আহ্বান জানাবো, তারা যেন সংযত আচরণ করে।

হংকংয়ে বিক্ষোভ নিয়ে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়ানোর দায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারের হাজারো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ অ্যাকাউন্টগুলো চীন থেকে পরিচালিত হচ্ছিল বলে জানা গেছে। এর পেছনে চীনা সরকারের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক বিবৃতিতে টুইটার জানায়, এখন পর্যন্ত তারা প্রায় এক হাজার চীনা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। রাষ্ট্রীয় মদদে এসব করা হয়েছে বলে টুইটারের কাছে প্রমাণিত হয়েছে।

অপরাধীদের বিচারের জন্য চীনের মূল ভূখণ্ডে পাঠানোর বিধান রেখে হংকংয়ের পার্লামেন্ট একটি বিল উত্থাপনের পরই গত ৩১শে মার্চ থেকে সেখানে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের জেরে বিলটি স্থগিত করে প্রশাসন। বর্তমানে বিলটি পুরোপুরি বাতিল, বিক্ষোভে পুলিশি নির্যাতনের নিরপেক্ষ তদন্ত, আটককৃতদের মুক্তি, গণতান্ত্রিক অধিকারসহ পাঁচ দফা দাবিতে অঞ্চলটির বাসিন্দারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।