SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২০-০৮-২০১৯ ১১:১৬:১৪

বিদেশ গিয়ে নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে

dead-body

বাড়ছে প্রবাস থেকে আসা শ্রমিকের লাশের সংখ্যা। গত ক'বছর ধরে তালিকায় উদ্বেগজনকহারে যুক্ত হচ্ছে নারী শ্রমিকের নামও। আর পরিবারগুলোর দাবি,  মৃত্যুর কারণ হিসেবে যে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় তার সঙ্গে মিলছে না লাশের সুরতহাল রিপোর্ট। এ অবস্থায় দেশে এনে লাশের ময়নাতদন্তের দাবি সংশ্লিষ্টদের।

একটু ভালোভাবে বাঁচার আশায় বিদেশ বিভুঁইয়ে পা রাখেন যারা, কঠিন বাস্তবতা হলো তাদের অনেকেই দেশে ফেরেন লাশ হয়ে। গত বছর ভাগ্য বদলের আশায় এক দালালের সহায়তায় দুবাইতে বিউটি পার্লারের কাজ করতে যান গাজীপুরের মিথিলা। এক বছর পর খবর আসে খুন হয়েছেন ২৫ বছর বয়সী মিথিলা। কিন্তু সেই খুনের কোনো ব্যাখ্যা জানে না পরিবার। লাপাত্তা আদম ব্যাপারি আলম।

মিথিলার মা বলেন, '২ দিন ধরে কথা কয় না আর কথা কবেও না সালমা মারা গেছে।'

মাত্র ১৮ বছর বয়সে নারায়ণগঞ্জের রিতু আক্তার গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদিতে যান। কিন্তু ২৮ দিনের মাথায় খবর আসে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মারা গেছেন রিতু।

রিতুর বাবা বলেন, 'সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মারা গেলে শরীরে দাগ থাকবে পোড়ার। কিন্তু আমার মেয়ের শরীরে কোনো দাগ ছিলো না।'

সরকারেরই পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর গড়ে এখন লাশ আসছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার। অথচ, ২০১২ সাল পর্যন্ত লাশের সংখ্যা তিন হাজারের নিচেই ছিলো। গত বছর সংখ্যাটা রেকর্ড ছাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭শ ৯৩টি।

সরকারের কাছে শুধু নারীদের লাশের আলাদা তালিকা নেই। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গত ৩ বছরের নথি গুণে দেখা গেছে প্রতি বছর নারী লাশের সংখ্যা দুশোর কাছাকাছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে আসার পর এসব লাশের পোষ্টমর্টেম করা হয় না, যা করাটা জরুরি বলে মনে করেন তারা।

ব্রাক অভিবাসন প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, 'লাশে লেখা আছে একটা কারণ, আসলে কি ঐ কারণে মারা গেছে কি না তার ময়না তদন্ত করা হয় না। কারণটা জানার জন্য হলেও ময়না তদন্ত করা উচিত।'

তবে শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়াটা যৌক্তিক বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য রেমিটেন্স অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা কোনোমতেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করে নয়।