SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২৪-০৭-২০১৯ ০৬:০১:১৮

বন্ধ হয়ে গেছে যশোরের দুই তৃতীয়াংশ হ্যাচারি

jes-fish-fry

বন্ধ হয়ে গেছে রেণু পোনা উৎপাদনে শীর্ষে থাকা যশোরের দুই তৃতীয়াংশ হ্যাচারি। ব্রুড স্বল্পতা, পুকুর লিজ মূল্য, খাবার, বিদ্যুতসহ সংশ্লিষ্ট সকল কিছুর মূল্যবৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে পড়েছে বিরূপ প্রভাব। তবে মৎস্য বিভাগের দাবি তারা সমস্যা সমাধানে সব ধরণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

আশির দশকে যশোরে মাছের রেণু উৎপাদনের বিস্তার ঘটে। বিশেষ করে যশোর শহরের চাঁচড়া এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠে ৮৭টি হ্যাচারি। এসব হ্যাচারিতে উৎপাদিত হয় রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্রাস কার্প, সিলভার কার্প, পাঙ্গাশ, ব্লাককার্প, কালিবাউস, সরপুঁটি, শিং, কৈসহ বিভিন্ন মাছের রেণু পোনা। যা দেশের মোট চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ করতো। কিন্তু বর্তমানে ব্রুড স্বল্পতা, জলাশয়ের লিজ মূল্য, সার, মাছের খাবার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক পানির উৎস কমে যাওয়ায় হ্যাচারি মালিকরা চরম প্রতিকূলতার সম্মুখীন। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, লোকসান ঠেকাতে ৬৭টি হ্যাচারি বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আর যারা এখনও ব্যবসা করছেন তাদের নাভিশ্বাস দশা।   
 
একজন ব্যবসায়ী বলেন, সবকিছুরই দাম বেশি অথচ মাছের রেণুর দাম মাত্র আটশো টাকা। যে পরিমাণে ব্যয় তা আমরা কভারেজ দিতে পারছি না।

মাছ উৎপাদনের জন্য রেণুর চাহিদা মেটাতে এসব হ্যাচারিই একমাত্র ক্ষেত্র দাবি করে সমস্যা সমাধানে প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন যশোর জেলা মৎস্য হ্যাচারি সমিতির সভাপতি আলহাজ  মো. ফিরোজ খান।

তিনি বলেন, আমরা যে সারাবিশ্বে ৪র্থ স্থান ধরে রেখেছি এটাকে ধরে রাখতে চাইলে হ্যাচারি চালু রাখা উচিত।

এদিকে মৎস্য বিভাগের দাবি তারা সমস্যা সমাধানে সব ধরণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস এম আশিকুর রহমান বলেন, আমরা সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যেন তাদের মানোন্নয়ের ব্যবস্থা নিয়েছি।

যশোর জেলায় ১৩ হাজার ৬২৬ হেক্টর জলায়তন বিশিষ্ট পুকুর ও ১৩ হাজার ৩৯১ হেক্টর বাওড় রয়েছে। হ্যাচারিগুলোতে উৎপাদিত রেণু পোনা এসব জলাশয়ে চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে প্রায় ৩২ লাখ মানুষ। এছাড়া দেশের একটি বৃহত্তর অংশের মাছ চাষিদেরও জীবিকা নির্বাহ হয় এখান থেকে উৎপাদিত রেণু পোনা থেকে।