SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ২২-০৭-২০১৯ ১৬:১২:৪২

সংঘর্ষ-হামলায় রণক্ষেত্র হংকং

hongkong

আন্দোলনরত প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে হংকং। এছাড়াও আন্দোলকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে মুখোশধারীরা। এতে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। রোববার টানা সপ্তম সপ্তাহের মতো অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিল, স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে চীনের বিশেষ এই প্রশাসনিক অঞ্চলটি। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানো ছাড়াও, হংকংয়ের চীনা লিয়াজোঁ কার্যালয়ে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। এদিকে আন্দোলনকারীদের সহিংসতার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রোবাবার দুপুরে ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে প্রতিবাদ র‌্যালি শুরু করে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থীরা। এসময় কালো টি-শার্ট পড়ে সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেয় তারা। দাবি করে আধাস্বায়ত্তশাসনের বদলে পূর্ণ স্বাধীনতার। ৩১শে মার্চ বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের জন্য বিক্ষোভ শুরু হলেও, এখন তা ঘুরে দাড়িয়েছে স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক সংস্কার, ভোটাধিকারসহ নানা দাবি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশি নির্যাতনের স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানায় তারা।

আয়োজকরা বলছে, বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। তবে পুলিশের হিসেব অনুযায়ী এ সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন প্রতিবাদকারীরা।

বিক্ষোভ ঠেকাতে রোববার দিনের শুরু থেকেই হংকংয়ের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য। প্রাথমিক অবস্থায় বাধা না দিলেও, র‌্যালিটি প্রশাসনিক এলাকার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে ব্যারিক্যাট দেয় পুলিশ। বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা সামনে এগুতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় টিয়ার সেল ও রবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। প্রতিবাদকারীরাও পাথর ছুড়ে এর জবাব দেয়। এতে হতাহত হন বেশ কয়েকজন।

এরপর বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ হংকংয়ের চীনা লিয়াজোঁ কার্যালয়ে হামলা চালায়। এসময় তারা ভবন লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়ে। কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেয় চীনা প্রতীক। পরে চীন বিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকে আন্দোলনকারীরা।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে হংকংয়ের নির্বাহী কাউন্সিলের চীনাপন্থী সদস্যরা। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের সহিংসতার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম।


তিনি বলেন, 'র‌্যালির পর আন্দোলনকারীরা যে ধরনের সহিংসতা করেছে তা কোন অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা ধারাবাহিকভাবে আইন ভঙ্গ করেছে। জাতীয় প্রতীককে অসম্মান করেছে।'

এদিকে প্রতিবাদ র‌্যালি শেষ করে ফিরে যাওয়ার সময় একটি রেল স্টেশনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে সাদা টি-শার্ট পরিহিত ব্যক্তিরা। এতে আহত হন বেশ কয়েকজন যাত্রী। বিরোধীদের দাবি সরকার সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছে।

১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্য থেকে চীনের কাছে হস্তান্তরের পর হংকংয়ের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। এর আগে ২০০৩ এবং ২০১৪ সালেও সরকারবিরোধী আন্দোলনের ঢেউ উঠেছিল অঞ্চলটিতে। কর্তৃপক্ষের নানা পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত সেই বিক্ষোভ সাফল্যের মুখ দেখেনি। তবে এবারের পরিস্থিতি অতীতের যেকোন সময়ের থেকে জটিল বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।