SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১৯-০৭-২০১৯ ০৯:৩৬:১৪

দুর্যোগ কবলিত এলাকায় উপেক্ষিত প্রসূতিরা

gai-fld-spl

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলা করছে উত্তরবঙ্গের জনপদ গাইবান্ধার মানুষ। চর-দ্বীপচর ছাপিয়ে গ্রাম-শহরও ভাসছে বানের জলে। বরাবরের মতো এবারও দুর্যোগ কবলিত লাখো মানুষের ভিড়ে উপেক্ষিত প্রসূতি মা, শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। তাদের প্রতি বিশেষ নজর দেয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল দুমড়ে-মুচড়ে নিয়ে গেছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। সেই বাঁধভাঙা পানির স্রোত সামনে হাজির হয়েছে দুর্ভোগ দুর্দশার পাহাড় হয়ে। রেকর্ড ভাঙা বন্যায় বিপদে পড়েছেন প্রসূতি মায়েরা। প্রয়োজনীয় খাদ্য, পুষ্টির অভাবে গর্ভের সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় গর্ভবতীরা।

এক প্রসূতি বলেন, আমি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, কিন্তু বন্যায় এমন অবস্থা যে পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছি না। আমি বাঁচবো নাকি সন্তানকে বাঁচাবো সেটাই বুঝতেছি না।
 
বানের পানির তলে বাড়িঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে মাথা গুঁজলেও শিশুদের নিয়ে শঙ্কার শেষ নেই অভিভাবকদের। খেলার ছলে কখন কে কোথায় পানিতে ডুবে মরে, ঘুরে ফিরে কেবলই সেই দুশ্চিন্তা।
 
চিকিৎসকরা বলছেন, সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়ের মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ভাবতে হবে এখনই। নিরাপত্তা হয়ে সবমহলকে তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন বলে মত তাদের।

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র মেডিকেল অফিসার ডা. আফসারী খানম বলেন, এসময় তারা যেকোনো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে। সেজন্য তাদের এসময় পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সাবেক উপ-পরিচালক ডা. ফেরদৌস হোসেন মঞ্জু বলেন, গর্ভবতী মায়েদের জন্য সবারই এগিয়ে আসা উচিত। সরকার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারিদেরও সাহায্যের প্রয়োজন।

উজানের ঢলে ভাটির জনপদ গাইবান্ধার ছয় উপজেলায় চার লাখেরও বেশী মানুষ পানিবন্দি। তার মধ্যে প্রসূতি মা ও শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সদস্য অন্তত এক লাখ।