SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাণিজ্য সময়

আপডেট- ১৬-০৭-২০১৯ ০৫:৪৫:৫৪

অপরিকল্পিত শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ না দিলে বাঁচবে ফসলি জমি

industry

অপরিকল্পিত শিল্প কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুৎ না দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা গেলে ফসলি জমির ওপর চাপ কমবে। সেই সঙ্গে এসব সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে বিপণন ব্যবস্থা সহজ হবে। এমন মত বিশ্লেষকদের। তবে, পরিকল্পিত শিল্পায়নের সুবিধা বড় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও নিশ্চিত করার পরামর্শ তাদের।

ধীরে ধীরে কৃষি থেকে দেশ এগুচ্ছে শিল্পের দিকে। এক সময় কৃষিখাতের ওপর ৮০ শতাংশের বেশি নির্ভরশীল বাংলাদেশ এখন কৃষির অবদান জিডিপির ১৩ শতাংশের মতো। অন্যদিকে স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় শূন্যের কোঠায় থাকা শিল্প খাতের অবদান এখন ৩৩ শতাংশ।অর্থনীতির বাকি ৫০ শতাংশের বেশি যোগান দেয় সেবা খাত। বাড়তে থাকা শিল্পখাতের কারণে দ্রুতই বেড়েছে অর্থনীতির আকার, বেড়েছে কর্মসংস্থান। তাই সরকারের পরিকল্পনাও এগিয়েছে শিল্পখাত কেন্দ্র করে। এখন পর্যন্ত শিল্প কারখানা যে কাঠামো গড়ে উঠেছে তার একটি বড় অংশ অপরিকল্পিত। যত্রতত্র গড়ে ওঠা কারখানায় নষ্ট হচ্ছে ফসলী জমি, বাড়ছে দূষণ আর বিপণন ব্যবস্থাও থেকে গেছে অগোছালো। দেরিতে হলেও নড়েচড়ে বসেছে সরকার। অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ঠেকাতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ার। এমন সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতিবিদ ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, হার্ড ইনফ্র্যাস্টাকচারের সঙ্গে সঙ্গে সফট পার্টে, এই যেমন রেজিস্ট্রেশন, দুর্নীতি না হওয়া, উপযুক্ত সময়ে কাজ করা, বিদ্যুৎ-গ্যাসের লাইনের একটা নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে শেষ করা, যেটা আইনে এখন লিপিবদ্ধ করা আছে। সেই অনুযায়ী যদি আমরা করতে পারি তাহলে আমরা ধীরে ধীরে পরিবর্তনটি দেখতে পাবো।

এফবিসিসিআই'র সাবেক পরিচালক মো. শাহজালাল মজুমদার বলেন, শিল্পাঞ্চলে শিল্প করা উচিৎ। অন্য কোনো জায়গায় শিল্প করা ঠিক না। ফসলি জমিও নষ্ট করা ঠিক না।

পরিকল্পিত শিল্প কারখানা করতে সারাদেশে বিসিক শিল্প নগরী আছে ৭৪ টি। তবে, দীর্ঘদিনেও বিসিক কেন্দ্রিক পরিকল্পনার খুব একটা ইতিবাচক ফল মেলেনি। এবার আগামীর বাংলাদেশের বিনিয়োগের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার। কাজও শুরু হয়েছে জোরেশোরে। তবে, বিনিয়োগ পরিকল্পনায় বড় শিল্পের পাশাপাশি ছোট শিল্পগুলোকে বিবেচনায় নেয়া উচিত বলে মনে করেন ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা। আর তা যেন হয় পরিবেশ সম্মত উপায়ে।

অর্থনীতিবিদ ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, শুধুমাত্র স্পেশাল ইকোনোমিক জোনগুলোর ভেতরেই এই সুবিধাটির কথা মাথায় না রেখে ক্ষুদ্র বা মাঝারি উদ্যোক্তা, যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন তারা যাতে নিজস্ব এলাকাতে শিল্পের জন্য নির্ধারিত যে জমি সেগুলো অধিগ্রহণ করতে পারেন এবং সেখানেও যাতে গ্যাস-বিদ্যুতের সুবিধা পান সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

সীমিত ভূমি ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিকল্পিত বিনিয়োগ করা গেলে আগামীর বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।