SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১০-০৭-২০১৯ ২১:৩২:১৬

নওগাঁয় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে কৃষি যাদুঘর

nga-agri1

দেশ বিদেশের কৃষি কাজে ব্যবহারের নানা উপকরণ সংগ্রহের মাধ্যমে নওগাঁর মান্দায় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে কৃষি যাদুঘর। প্রত্যন্ত পল্লীতে ব্যতিক্রমী এ যাদুঘর স্থানীয়দের কাছে বিনোদনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কৃষি যন্ত্রপাতি ও গাছ গাছালির সাথে পরিচিত হতে শিক্ষার্থীসহ গবেষকরা যাচ্ছেন সেখানে। ঢেঁকি, মই, লাঙ্গল, পালকি, তেল ভাঙ্গা ঘানিসহ হারিয়ে যাওয়া হাজারো কৃষির উপকরণ স্থান পেয়েছে এ যাদুঘরে। রয়েছে কৃষি বিষয়ক সমৃদ্ধ একটি পাঠাগারও। 

ফুল, ফল আর বনজ গাছ দিয়ে সাজানো গেট পার হলেই দেখা মেলে কৃষি কাজের নানা উপকরণ, দড়ি পাকানোর ঢ্যারা, ঢেঁকি, আমপাড়ার জালি, লাঙ্গল-জোয়াল, গরুর গাড়ীর ছই, মাছ ধরার চাঁই থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি উপকরণে ঠাসা মাটির ঘর। 

কৃষকের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও চাষবাসের জন্য থরে থরে সাজানো দুর্লভ সব বই নিয়ে কৃষি পাঠাগার। নওগাঁর মান্দায় জাহাঙ্গীর আলম শাহের পৈতৃক মাটির বাড়িটি আজ সমৃদ্ধ একটি কৃষি জাদুঘর। ২০ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কৃষি কাজের ব্যবহারী নানা উপকরণ সংগ্রহের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন কৃষি যাদুঘর ও কৃষি তথ্য পাঠাগার। 

কৃষিভিত্তিক জ্ঞান অর্জনে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এ যাদুঘর দেখতে আসেন।

শিক্ষকতা পেশায় থেকে নতুন প্রজন্মকে কৃষির সাথে যুক্ত করা আর কৃষকের মাঝে বাস্তব ভিত্তিক জ্ঞান দিতে এ যাদুঘর গড়ে তোলা জানালেন এর প্রতিষ্ঠাতা মো. জাহাঙ্গীর শাহ। তিনি বলেন, শুধু চাষ নয়, মৎস, ফুল, ফল অনেক বিষয়ে কৃষক জ্ঞান অর্জন করতে চায়। এখানের কৃষি পাঠাগারে সেসব বই আছে।

জাহাঙ্গীর শাহ'র কৃষি ও কৃষকের প্রতি ভালবাসার এমন দৃষ্টান্তকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন। আর অবকাঠামা সুযোগ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. মাসুদর রহমান বলেন, তার এই কাজ কৃষি উন্নয়নের সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে এটাকে আরো কিভাবে আরো সমৃদ্ধ করা যায় সে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো। 

২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কৃষি যাদুঘর ও তথ্য পাঠাগারের যাত্রা শুরু।