SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ০২-০৭-২০১৯ ০৫:৩২:৫৪

ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষকরা

bbaria-paddy

দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ধান-চালের পাইকারি বাজার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষকরা। ধানের বাজারের বেহাল অবস্থায় এর নীতিবাচক প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। কৃষক ও  চালকল মালিকদের দাবি, বিদেশ থেকে চাল আমদানি বন্ধ করা হলে উভয় পক্ষই লাভবান হবেন।

কিশোরগঞ্জের ইটনার সারোয়ার, নেত্রকোনার মদনের কবীর খান এবং সিলেটের মো. উজ্জল মিয়া জানান, নিজের ধানের পাশাপাশি ভালো দামের আশায় কৃষকের কাছ থেকে ৬শ থেকে ৭শ টাকা মণ দরে বিপুল পরিমাণ ধান কিনে আশুগঞ্জ বাজারে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু বাজারে ক্রয় মূল্যের সাথে বিক্রয় মূল্য প্রতিমণে ১শ টাকা কম থাকায় হতাশ তারা।

তারা বলেন, যেই দামে ধান কিনে এনেছি তা পাচ্ছি না। সরকার যেই পরিমাণ ধান কিনছে তাতে কৃষকের চার আনা ধানও যাচ্ছে না।

চালকল মালিকেরা বলছেন, ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি করার ফলে মিলগুলোতে জমেছে অবিক্রিত চাল। ফলে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন মিল মালিকেরা।

তারা বলেন, দেশে প্রচুর ধান রয়েছে। সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি বন্ধ না করলে আমরা ব্যবসা করতে পারব না।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করায় চাল আমদানি বন্ধ করে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হলে কৃষক-মিল মালিক উভয়েই লাভবান হবে বলে মনে করেন, চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দলাহ্।

তিনি বলেন, সরকারি এবং বেসরকারিভাবে রপ্তানি খুলে দিলে কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।
 
তবে সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যে ধান কেনার ফলে কৃষক অনেকটাই লাভবান হবে বলে মনে করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খান।

তিনি বলেন, অচিরেই আমরা ধান ক্রয়ের অধিক লক্ষ্যমাত্রা পাব। সেটা আমরা কৃষকদের কাছ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্রয় করব। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।

মেঘনা নদীর তীরবর্তী আশুগঞ্জ বাজারে দেশের প্রায় ১৭টি জেলা থেকে ধান আসে। আর এখানে ৩ শতাধিক চালকল রয়েছে।