SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৯-০৬-২০১৯ ১৪:৫৬:৩০

চট্টগ্রাম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ১৫টির বেশি কিশোর গ্যাং

ctg-gang-up

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ১৫টির বেশি কিশোর গ্যাং। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই গ্রুপগুলো জড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের বিরোধে। এমনকি গত এক বছরে এসব কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধে প্রাণ হারিয়েছে বেশ ক’জন। কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধের জেরে চট্টগ্রামে ক্রসফায়ারের ঘটনাও ঘটেছে। তবে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

সাম্প্রতিক বেশ কটি হত্যা এবং সংঘাতের ঘটনা তদন্তে বের হয়ে আসে কিশোর গ্যাংয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রেম থেকে শুরু করে তুচ্ছ যে কোনো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী সংঘাতে। এসব ক্ষেত্রে তারা ব্যবহার করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে হত্যা, মাদক চোরাচালানের মতো বড় ধরণের অপরাধের পরিকল্পনা করছে এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা।

সিএমপি’র কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, গ্যাং কালচারের সদস্যরা ফেসবুক-টুইটারসহ বিভিন্ন অ্যাপে গ্রুপ খুলে নিয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে ঝামেলা হলে এরা ওই গ্রুপের মাধ্যমে অন্য সদস্যদের জানিয়ে দেয়। এরপর স্কুল ছুটি হলে এরা একত্রিত হয়ে একজন আরেকজনের ওপর হামলা চালায়।

রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যেমন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এসব কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না, অপরদিকে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবার থেকে সমাজে। গত দু'মাস আগে এধরনের কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধে নগরীর বাকলিয়া এলাকায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনের মৃত্যু হয়।

সনাকের চট্টগ্রাম সভাপতি অ্যাডভোকেট আকতার কবীর চৌধুরী বলেন, সংঘবদ্ধ চক্র হয়ে গেলে অনেক সময় সবাই মনে করে তাদের পেছনে কোনো গডফাদার রয়েছে। অনেক সময় সরকারি দলের প্রভাবশালী লোকজনকেও মানুষ সন্দেহ করে।
  
তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, কিশোর গ্যাংদের তৎপরতা দমনে চিহ্নিত স্থানগুলো তদারকির আওতায় আনা হচ্ছে।

সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, ছোট ছোট গ্রুপ করে এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা আগে কোনো একজন বড় ভাইয়ের অধীনে থাকত। গেল কয়েক মাস ধরে আমরা এ ধরণের কিছুই প্রশ্রয় দিচ্ছি না।

চট্টগ্রামে গত দু' বছরে কিশোর গ্যাংদের বিরোধকে কেন্দ্র করে ১০ টির বেশি মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনোটিরই বিচার হয়নি।