SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ৩১-০৫-২০১৯ ১৫:৩০:০৩

এনজিও’র মামলায় হতদরিদ্র দুই গৃহিণী কারাগারে

rte

ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারার দায়ে শেষ পর্যন্ত কারাগারে যেতে হয়েছে গাইবান্ধার হতদরিদ্র পরিবারের দুই গৃহিণীকে। গত বুধবার (২৯ মে) রাতে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। 

ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামে একটি এনজিও’র দায়েরকৃত মামলায় তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, গাইবান্ধা সদর উপজেলার তরফকাল গ্রামের দিনমজুর আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী আকলিমা বেগম এবং শাহিনুর মিয়ার স্ত্রী রশিদা বেগম।

টিএমএসএস’র দায়েরকৃত মামলার বিবরণে জানা যায়, এনজিওটির সদস্য তরফকাল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী আকলিমা বেগম ২০০৮ সালে ১৬,৮৭৫ টাকা ও কোহিনুর রহমানের স্ত্রী রশিদা বেগম ২০০৭ সালে ১৩,৫০০ শত টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। কিছুদিন কিস্তি দেয়ার পর তারা কিস্তি দিতে পারেননি। পরে ২০১৩ সালে গাইবান্ধা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে ওই দুই গৃহিণীকে আসামি করে মামলা দায়ের করে এনজিওটি।

২০১৭ সালে উভয় ঋণ গ্রহীতাকে ৬ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
গৃহিণী আকলিমার স্বামী আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, এই এনজিও'র তৎকালীন মাঠকর্মী মশিউর রহমান ঋণ উত্তোলনের সময় ভাগে কিস্তি দেয়ার কথা বলে তার স্ত্রীর কাছ থেকে ঋণের ৪ হাজার টাকা কেটে নেন। পরে সেই টাকা না দিয়ে আকলিমার দেয়া কিস্তির টাকা  নেয়ার পর সিটে না তুলে শুধুমাত্র পাস বইয়ে কিস্তি তুলে দেয়। পরে নিরীক্ষা করার কথা বলে পাস বই নিয়ে যাওয়ার পর তালবাহানার এক পর্যায়ে মশিউর চাকরি ছেড়ে চলে যায়। এ ব্যাপারে পরবর্তী মাঠকর্মীদের জানানো হলেও বিষয়টি সমাধান না করে মামলা করা হয়।

মামলার অপর আসামির স্বামী শাহিনুর মিয়াও একই অভিযোগ করে বলেন, এই এনজিওর মাঠকর্মীর কারণেই তাদের ঋণ বকেয়া পড়ে।

এদিকে আসামিদের গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার গ্রেফতারকৃতদের অভিভাবকরা এনজিওটির এক কর্মকর্তার শরণাপন্ন হলে আসামিদের ছেড়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে পাওনা টাকা পরিশোধ করে নেন।
  
আকলিমার স্বামী জানান, তিনি স্ত্রীকে মুক্ত করতে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে টাকা পরিশোধ করেছেন। তিনি বলেন, স্ত্রী গ্রেফতার হবার পর থেকে সন্তান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।  তাই উপায় না পেয়ে স্ত্রীকে মুক্ত করতে টাকা জোগাড় করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মনিরা আক্তার বলেন, সামনে একটা ঈদ। ঈদের আগমুহূর্তে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকায় অসহায় পরিবার দুটি ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে। কিন্তু যে এনজিও কর্মী তাদের কিস্তির টাকা আত্মসাৎ করে ফাঁদে ফেললো তারও বিচার হওয়া উচিৎ।