SomoyNews.TV

স্বাস্থ্য

আপডেট- ০৮-০৫-২০১৯ ১৩:০৫:১৮

বিয়ের আগেই থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষার জরুরি

untitled-14

বংশগত রোগ থ্যালাসেমিয়া নিয়ে প্রতিবছর জন্ম নিচ্ছে অন্তত ৯ হাজার শিশু। নিয়মিত রক্ত সংগ্রহ, থেরাপিসহ একেকজন রোগীর বছরে চিকিৎসা ব্যয় সোয়া লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সঠিক চিকিৎসার অভাবে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই মারা যাচ্ছে বেশিরভাগ রোগী। তাই বিয়ের আগে ছেলে-মেয়ের বাহক নির্ণয় পরীক্ষা ও বাহকদের মধ্যে বিয়ে বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের।

'আমার খারাপ লাগে যে, আমি আমার মা-বাবার ওপর একটা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।'- কথাটা বলতে গিয়ে ছলছল চোখের বাঁধটা ভেঙে গেল রুবাইয়ার। গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লো অসহায়ত্বের অশ্রু।

দীর্ঘ ১৪টি বছর বাবা মায়ের সংগ্রামী মুখ ৭ম শ্রেণীর রুবাইয়াকে বুঝতে শিখিয়েছে জীবনের বাস্তবতাটুকু। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত মেয়েকে বাঁচাতে নিজ ভিটা খুলনা ছেড়ে ঢাকাতেই স্থায়ী নিবাস গড়েছে রুবাইয়ার পরিবার। দুই মেয়ের অন্যটিও থ্যালাসেমিয়ার বাহক হওয়ায় দুশ্চিন্তার শেষ নেই মায়ের।

তিনি বলেন, 'অনেক সময় রক্ত পাওয়া যায় না। এইতো এই মাসেও রক্ত পেতে অনেক দেরি হয়ে গেছে।'

সন্তানের জীবনকে পাহারা দিতে প্রতিটি পরিবারেই রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। প্রকোপ বাড়লেও দেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় অজানা আশঙ্কায় দিন পার করতে হয় অভিভাবকদের।

থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত আরেক রোগীর মা বলেন, 'প্রতি মাসে চাঁদপুর থেকে আসা যাওয়া করতে হয়। এছাড়া এটা তো ব্যয়বহুল। খরচও বেড়ে যাচ্ছে।'

আরেকজন বলেন, 'রক্তের জন্য অনেক সময় ঘুরতে হয়। ডোনাররা অনেক সময় বলেন যে, দিবে কিন্তু সময়মতো দিতে পারেন না।'

অন্যের রক্তের ওপর ভরসা করেই প্রতিনিয়ত বাঁচতে হয় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের। ফলে অন্যের শরীরের রোগ দিয়েও মৃত্যুর আশঙ্কায় পড়ছেন রোগীরা। এছাড়াও আক্রান্ত সত্তর লাখের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় প্রতিরোধের দিকেই জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. নুসরাত সুলতানা বলেন, 'ডোনার তৈরি হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, আমার পনেরো দিন পরে রক্ত দরকার কিন্তু ওভাবে ম্যানেজ করতে পারছি না। আরেকটা বিষয় হচ্ছে নিরাপদ রক্তদান। এটা আমাদের নেই। যার কারণে রোগী অন্য কোনো রোগে যেমন- হেপাটাইটিস সি, হেপাটাইটিস বি'তে আক্রান্ত হচ্ছে। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হওয়ার দশ বছর পরেই কিন্তু হার্টে থ্যালাসেমিয়া আয়রন জমা হতে শুরু করে। সেটা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা বাংলাদেশে নাই।'

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'একটা হল পিতা-মাতার স্ক্রিনিং করে করা যেতে পারে। আরেকটা হল গর্ভকালীন ডায়গনিস করা যেতে পারে।'