SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ০১-০৫-২০১৯ ১১:৩৬:০১

সুখে নেই চা বাগানের শ্রমিকরা

tea-labour

দেশের একশো ৬৬টি চা বাগানে শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ। নিবন্ধনকৃত এক লাখ ১৮ হাজার শ্রমিক কিছুটা সুবিধা পেলেও বাকিদের জীবন চলছে করুণ সমীকরণের মধ্য দিয়ে। টানাটানির সংসারে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুরা, কিংবা অসুস্থ হলে চাকুরী হারাচ্ছেন কেউ কেউ।

শ্রমিকদের আঁকুতি দেশের সবচে প্রাচীন শিল্পের ঘরে ঘরে। শ্রমিকের বিন্দু বিন্দু ঘামে গড়ে ওঠা চা বাগানের মানুষেরা সুখে নেই। একশ' ৬২ বছরের প্রাচীন বাগানগুলো এ পর্যায়ে এসে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন করলেও উন্নীত হয়নি চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানের। জীর্ণ শীর্ণ ঘরে কোন মতে জীবনকে টেনে নিয়ে গেলেও নুন আনতে পানতা ফুরায় শ্রমিকের ঘরে রোজদিন।

অর্থের অভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারছে না অনেকেই। কয়েকজন নারী শ্রমিক বলেন, 'কয়েক-সপ্তাহে যে পয়সা পাই তা একদিনেই শেষ হয় যায়। আমরা বাগানে অসুস্থ হলেও কোনো চিকিৎসা নেই।'

দেড় শতাধিক বছর প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চা বাগানের ধূলা-মাটির সাথে বসবাস করলেও শ্রমিকেরা এখনও ভূমির অধিকার পায়নি। এতে তাদের ক্ষোভের শেষ নেই। এদিকে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণে বাগান মালিকদের বাধ্য করছে বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা।

বরজান টি এষ্টেট লি. মহাব্যবস্থাপক আবদুস সাত্তার বলেন, 'শ্রমিকদের বেতন বাড়ছে। ছুটি দেওয়া হচ্ছে। উৎসব ভাতা পাচ্ছে। এছাড়া ছুটির দিনে কাজ করলেও সেদিনের বেতন পাচ্ছে।'

২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শ্রমিকদের মজুরি পাঁচ দফায় বাড়ানো হয়েছে। ২৩ কেজি চা তুলে দৈনিক মজুরি পেয়ে থাকেন শ্রমিকেরা। শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত দশ বছরে বিভিন্ন ধাপে ৩২ টাকা থেকে ১০২ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে শ্রমিকদের মজুরি। বর্তমান সয়য়ে তা অতি নগণ্য বলে দাবি শ্রমিকদের।