SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২২-০৪-২০১৯ ১৬:৩৭:৫৭

এখানে 'অনিয়মই' নিয়ম

natore

নাটোরের গণপূর্ত বিভাগ। অনিয়মই এখানে নিয়ম। উত্তরা গণভবনের শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলার দেড় বছর অতিবাহিত হলেও অভিযুক্তরা দৃষ্টান্তমূলক কোন শাস্তি পায়নি। পাশাপাশি দীর্ঘ দিনের ঠিকাদারি সিন্ডিকেট বন্ধ হয়নি প্রতিষ্ঠানটিতে।

বেশির ভাগ কাজই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রদান করা হয় একটি প্রতিষ্ঠানকে। পাশাপাশি কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। মশিউর রহমান আকন্দ নাটোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে ৫ বছর থাকা অবস্থায় এখানে অনিয়মকে নিয়ম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

যার ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। মশিউর রহমান আকন্দের সময় তৈরি হয় ঠিকাদারি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সকল কাজের ভাগ করতেন তিনি। আর এই সিন্ডিকেটকে সব সময় খুশি রেখে অধিকাংশ কাজ নিয়েছে বড়াইগ্রাম উপজেলার মীম কনস্ট্রাকশন। ঠিকাদারির দুর্নীতির পাশাপাশি মশিউর রহমানের নজর পড়ে উত্তরা গণভবনের শতবর্ষী তাজা গাছের ওপর।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সরকারী খাতায় মাত্র ১৮ হাজার টাকা জমা দেখিয়ে নিয়ম না মেনে ১৭টি শতবর্ষী তাজা গাছ ও ৪৮টি গাছের ডালপালা বিক্রি করে দেন। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে বিষয়টি তৎকালীন জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুনের নজরে আসলে তিনি গঠন করেন তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে গাছ কাটার অনিয়ম উঠে আসলে অধিদপ্তর মশিউর রহমান আকন্দসহ ৩ জনকে সাময়িক বরখাস্ত ও বদলি করে।

মশিউর রহমানের বদলীর পর নাটোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে যোগ দেন জাহিদুল ইসলাম। জাহিদুল ইসলামও মশিউর রহমানের রেখে যাওয়া সিন্ডিকেটের বাইরে যেতে পারেননি। সেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই এখনো কাজের কাজের বণ্টন বলে নাটোরের গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি লালপুর উপজেলার একটি মসজিদের কাজের দরপত্রে ৩টি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র প্রায় একই হয়। কিন্তু, ওই সিন্ডিকেটের তৎপরতায় মীম কনস্ট্রাকশনকে ওই কাজটি দেওয়া হয়। এলাকার পাঁচটি মসজিদের কাজের তিনটিই ওই প্রতিষ্ঠানটিকে দেয়া হয়।

জানা গেছে, সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রণ করছেন গাছ কাটায় বরখাস্ত হওয়ার পর চাকরি ফিরে পাওয়া ৩ জনের একজন ও ডাক বিভাগের অবসর প্রাপ্ত এক কর্মকর্তা। তারা প্রশাসন এবং প্রকৌশলীদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে রাখেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া এই সিন্ডিকেটের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে কিছু কাটের অর্থও লুটপাট করার অভিযোগ মিলেছে।
 
গণপূর্ত বিভাগের ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে গণপূর্ত বিভাগের কাজ হচ্ছে নিম্নমানের। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের কাজ নিম্নমানের করা জন্য বন্ধ করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে নাটোর জেলা প্রশাসকের নেজারত ডেপুটি কালেকক্টরেট (এনডিসি) অনিন্দ মন্ডল জানান, গাছ কাটার মামলার তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুর্নীতি দমন কমিশন এখনও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, গাছ কাটার বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে তিনি তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বর্তমানে কোন সিন্ডিকেট নেই। সমস্ত টেন্ডার ইজিপিতে হয়। ইজিপিতে যোগ্যতা অনুযায়ী মীম কনস্ট্রাকশন বেশি কাজ পেয়েছে। আর নিম্ন মানের কোন কাজ হচ্ছেনা দাবি করে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন সকল দপ্তরই কাজের মান ভাল বলে প্রত্যায়ন দিয়েছে।