SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৭-০৪-২০১৯ ১১:৫৮:১৩

রানা প্লাজায় জীবিত ফেরা শ্রমিকদের ৫১ শতাংশ কর্মহীন

rana-plaza

রানা প্লাজায় ভবন ধ্বসে আহত ২০ শতাংশ শ্রমিকের অবস্থার অবনতি ঘটেছে। ৪৯ শতাংশ আহত শ্রমিক বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত হলেও ৫১ শতাংশই এখনো রয়ে গেছে কর্মসংস্থানের বাহিরে। সেদিনের ভবন ধ্বসে জীবিত শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থান বিশ্লেষণে এমন তথ্য তুলে ধরে অধিকার সংস্থা অ্যাকশন এইড। এ সময় পোশাক শিল্প শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে নানা পরামর্শ তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বলা হয় বিশ্বের ইতিহাসে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার একটি রানা প্লাজার ভবন ধ্বস। সেদিনের ভবন ধ্বসে জীবন দিতে হয়েছিলো প্রায় সাড়ে ১১শ' জনকে। আহত হয়ে দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন আড়াই হাজার শ্রমিক।

৬ বছর পেরিয়ে গেছে প্রাণঘাতী সেই দুর্ঘটনার। এতে বেঁচে ফেরা আহত শ্রমিকদের জীবনমান এবং তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করছে অধিকার সংস্থা অ্যাকশন এইড। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, সেদিনের জীবিত ফেরা শ্রমিকদের ৫১ শতাংশ এখনো কর্মহীন। অবস্থার অবনতি হয়েছে ২০ শতাংশ আহত শ্রমিকের। ১৫ শতাংশ শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে ফেরত গেলেও অধিকাংশ শ্রমিকই দূরে সরে গেছেন গার্মেন্টস শিল্প থেকে।

অ্যাকশন এইডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত জেবিন বলেন, 'এবছর এসে দেখি যে, কাজ করছেন না ৫১ শতাংশ। গত বছর এটা ছিল ৪৭.৮ শতাংশ। উনারা সুস্থ হয়ে গেলেও দীর্ঘমেয়াদী ইনজুরি থাকে। উনাদের ব্যথাগুলো দীর্ঘ সময় কাজ করতে দেয় না।'

শুধু রানা প্লাজাই নয় শিল্পের স্বার্থে সব শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার আহ্বান বিশ্লেষকদের।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, 'একটা আলোচনা ছিল যে, শ্রমিকদের জন্য একটা বিশেষায়িত হাসপাতাল হবে। যেখানে রানা প্লাজায় আহতদের চিকিৎসা করা হবে। সেই আলোচনা কিন্তু এগোয়নি।'

বিআইডিএসের গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, 'আমাকে এটা দেখতে হবে যে, ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কারণ, ওই ফ্যাক্টরিগুলোতে কিন্তু অনেক শ্রমিক কাজ করতেন। তাদের চাকরিই নাই। তারা কিন্তু আরেকটা সেক্টরে যেতে পারছেন না। শ্রমিকদের জন্য ভালো পরিবহন এবং বাসস্থানের সুবিধা থাকতে হবে।'

সভায় আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, বীমা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং লিঙ্গ সমতা বাস্তবায়নে জোড় দেন বক্তারা।