SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১০-০৪-২০১৯ ০৩:১৪:২৮

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে মুখর ধামরাইয়ের পালপাড়া

savar-pohela

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাভার ও ধামরাইয়ের পালপাড়াগুলোতে বেড়েছে ব্যস্ততা। মাটির তৈরি পশু-পাখি ও জীবজন্তুসহ নানা তৈজসপত্র তৈরিতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন মৃৎশিল্পীরা। তবে, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের কারণে মাটির তৈরি জিনিসের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প বাঁচাতে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার দাবি বিশেষজ্ঞদের।  

 নলাম কুমারপাড়ার সুচিন্দ্র পাল, নিপুন হাতে ফুটিয়ে তুলছেন কুমিরের অবয়ব। বৈশাখে বাড়তি উপার্জনের আশায়, দিন-রাত পরিশ্রম করে, মাটির তৈরি জীবজন্তু ও পশুপাখি তৈরি করছেন তিনি।

একই চিত্র সাভার ও ধামরাইয়ের শিমুলিয়া, হাজীপাড়া, বানিয়াপাড়া ও কাঁকরানসহ বিভিন্ন পালপাড়ার। বাংলা নতুন বছর উপলক্ষে মাটির তৈরি নানা সৌখিন উপকরণ তৈরিতে ব্যস্ততা বেড়েছে মৃৎশিল্পীদের। তবে, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের কারণে মাটির তৈজসপত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায়, বছরের অন্য সময় অনেকটাই নিরুত্তাপ থাকে কুমারপাড়াগুলো।

বৈশাখের বাজার ধরতে মাটির তৈরি পণ্যগুলো বুঝে নিতে, ঘাটে নৌকা ভিড়িয়েছেন পাইকাররা। ক্রেতার চাহিদা মোতাবেক পণ্য পেলে বাড়তি লাভের আশা তাদের।

তারা বলেন, যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় সে অনুযায়ী দাম পাওয়া যায় না। সিলভার মার্কেটে আসার পর থেকে মাটির তৈরি জিনিসের চাহিদা কমে গেছে। 

সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের আরো প্রসার ঘটবে বলে মনে করে এই বিশেষজ্ঞ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ময়েজ উদ্দিন বলেন, এইসব শিল্পকর্ম জায়গাগুলোকে সমৃদ্ধ করছে, দেশের ঐতিহ্যকে যদি আমরা পৃষ্ঠপোষকতা করি তাহলে দেশের বাইরেও এই শিল্পকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। 

বংশী নদীর তীরে গড়ে ওঠা পালপাড়ার ২০-২৫ টি গ্রামে অন্তত ১০ হাজার পরিবার বাস করেন। এরমধ্যে শুধু বংশীয় ঐতিহ্যকে ধারণ করে প্রায় একশ' পরিবার মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত।