SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ০৭-০৪-২০১৯ ২১:৫৮:৫১

ঝিনাইদহে ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

court

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের অমিত শিকদার নামে এক চাকরিজীবীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে ৭ পুলিশ সদস্য’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে দায়ী সবার বর্তমান অবস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা আদালতে সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন ঝিনাইদহের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম। দায়ী পুলিশ সদস্যরা হলেন-কালীগঞ্জ থানার ২০১৬ সালে কর্মরত এস আই লিটন কুমার, এস আই বিশ্বজিত পাল, এ এস আই গাফফার, ২ জন কনস্টেবল, ওসি ও ডিউটি অফিসার।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ মার্চ কালীগঞ্জ উপজেলার চাকরিজীবী অমিত শিকদার ও কার্তিক বিশ্বাস রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কাশিপুর রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে ডাইরি এন্ট্রি না করে বের হওয়া কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল তাদের পথরোধ করে দেহ তল্লাশি করে। তল্লাশি শেষে ২ জন কনস্টেবল অমিত শিকদারকে নসিমনে করে থানায় নিয়ে আসে এবং কার্তিক বিশ্বাসকে মোটরসাইকেলে থানায় নিয়ে আসে এ এস আই গাফফার।

রাতভর অমিত শিকদার ও কার্তিক বিশ্বাসকে থানায় আটকে রাখে। পরদিন সকালে ৫২১ ও ৫২৯ নম্বর ডাইরি এন্ট্রি করে এবং কার্তিক বিশ্বাসকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ওই দিন থানায় কর্মরত এস আই লিটন কুমার বিশ্বাস মিথ্যা জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে ইয়াবা দিয়ে অমিত শিকদারকে চালান দেয়। মামলা নং-৫, তারিখ-১১/০৩/১৬।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই বিশ্বজিত পাল সাক্ষীদের ১৬১ ধারায় অসত্য জবানবন্দী রেকর্ড করে ও অসত্য পুলিশ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে।

২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলাটির বিচার হয়। মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় অমিত শিকদার ষড়যন্ত্রমুলক মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিকার চেয়ে আদালতে দরখাস্ত জমা দেয়। দরখাস্তটি মিস মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে আদালত মিস মামলাটির তদন্ত করতে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাসকে দায়িত্ব দেন। তদন্ত শেষে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)।

তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পর আদালত ঝিনাইদহের পুলিশ সুপারকে উক্ত ৫ জন পুলিশ সদস্য, সেই সময়ে অফিসার ইনচার্জ ও ডিউটি অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এছাড়াও অধিকতর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চলতি মাসে ২৯ তারিখে ৭ জনের বর্তমান অবস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা আদালতে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এস আই লিটন কুমার, এস আই বিশ্বজিত পাল বর্তমানে র‌্যাবে, এ এস আই গাফফার দামুড়হুদা থানায় কর্মরত আছেন। এছাড়াও সে সময় ওসি ছুটিতে থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেকেন্ড অফিসার এস আই ইমরান বর্তমান ডিবি পুলিশের ওসি হিসেবে কর্মরত আছেন।