SomoyNews.TV

স্বাস্থ্য

আপডেট- ২৪-০৩-২০১৯ ১১:০৪:৫৪

বাড়ছে ওষুধ প্রতিরোধী জটিল যক্ষায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা

tb-day

ওষুধ প্রতিরোধী জটিল যক্ষায় আক্রান্তের ৮০ ভাগই রয়ে যাচ্ছে শনাক্তের বাইরে। অশনাক্ত রোগীরা প্রতি বছর অন্তত ১০ জনকে মৃত্যু ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়ায় তাদের দ্রুত শনাক্তের আহ্বান যক্ষা বিশেষজ্ঞদের। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এমডিআর ও এক্সডিআর টিবি নিয়ন্ত্রণে সরকার বৈদেশিক সাহায্য পেয়ে আসছে। তবে অদূর ভবিষ্যতে অর্থায়ন বন্ধের আশঙ্কা সত্য হলে রোগী ও রাষ্ট্র চরম আর্থিক চাপে পড়বে বলে মত বিশ্লেষকদের। 

প্রতিদিন ২২টি ওষুধ ও একটি ইঞ্জেকশন পুশ করে দিন পার হয় এ মধ্য বয়সীর। ২০১১ সালে টিবি ধরা পড়ার পর চিকিৎসক ৬ মাসের ওষুধ দিলেও ভালো বোধ করায় মাঝপথে ছেড়ে দেন তিনি। এর কয়েক বছর পর আবারো অসুস্থ হয়ে রাজধানীর বক্ষব্যাধী হাসপাতালে এসে জানতে পারেন ওষুধ প্রতিরোধী জটিল যক্ষায় আক্রান্ত তিনি।

ছয় মাসের কোর্স শেষ না করলে, নিয়ম মেনে মানসম্পন্ন ওষুধ না খেলে সাময়িকভাবে সুস্থ হলেও জীবাণু আবার ফিরে আসে শরীরে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় এমন ওষুধ প্রতিরোধী বা এমডিআর যক্ষার ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ। আক্রান্তের স্বল্প সংখ্যক হাসপাতালে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেও নানা কারণে সেবায় সন্তুষ্ট নন রোগীরা।

তারা বলেন, মিডিয়ার সামনে যেসব কর্মতৎপরতা দেখাচ্ছেন নার্সরা সবসময় তেমন পাওয়া যায় না। এই ছোঁয়াচে রোগের ভয়ে রোগীর কাছে আসেন না তারা।

আরেকজন রোগী জানান, গরু ছাগলকে যেভাবে ইনজেকশন দেয় তেমন করে ইনজেকশন দেয় সেবিকারা। সেভাবে দিলে প্রচণ্ড ব্যথা লাগে এবং রক্ত বের হয়।

রাষ্ট্রের আর্থিক চাপ কমাতে দ্রুত টিবি রোগীদের শনাক্তের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

বক্ষব্যাধি হাসপাতালের মেডিকেল অ্যাডভাইজার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, একজন এমডিআর টিবি রোগী যদি চিকিৎসার আওতায় না আসেন তাহলে প্রতিবছর উনি কমপক্ষে ১০ জনকে নতুন করে এমডিআর টিবি রোগে আক্রান্ত করতে পারেন। এই নতুন রোগীরা যদি চিকিৎসার আওতায় না আসেন, তাহলে তাদের মৃত্যু অবধারিত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, যদি কার্যকরভাবে মনিটর করা না হয়, এবং এগুলোর ব্যর্থতার কারণে যদি এমডিআর টিবি’র হার দ্রুত বাড়তে থাকে এবং আরো ভয়াবহ যেটা, এক্সডিআর, সেটাও যদি হতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশকে শুধু ব্যক্তি-পর্যায়ে নয়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও বিপুল পরিমাণ আর্থিক চাপের মোকাবিলা করতে হবে।

প্রাথমিক অবস্থায় সব ধরনের টিবি শনাক্তে উপজেলা পর্যন্ত সেবা ছড়িয়ে দেবার পরিকল্পনা সরকারের। 

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান বলেন, জিন একসপার্ট মেশিন, যেটা দিয়ে আমরা সাধারণত টিবিটা শনাক্ত করতে পারি সেটা এখন ২০৬ টা সেন্টারে দেয়া হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে ৪৬০ টা উপজেলাতেই এটা স্থাপন করার পরিকল্পনা আছে।

২০১৭ সালের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধরে নেয়া হয় দেশে এমডিআর টিবি রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। অথচ চিকিৎসার আওতায় এসেছে মাত্র ৯শ ২০ জন। শনাক্তের বাইরে থাকা আক্রান্তের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা না গেলে তারা চারপাশের মানুষকে বহুগুণে মৃত্যু ঝুঁকিতে ফেলবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।