SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৯-০১-২০১৯ ১০:০১:৫৬

প্রকৃত সেবা পাচ্ছেন না জরায়ু মুখের ক্যান্সারে আক্রান্তরা

servical-cancer

জরায়ু মুখের ক্যান্সারে আক্রান্তের ৭০ শতাংশই রয়ে যাচ্ছে শনাক্তের বাইরে। এছাড়া রাজধানীর মাত্র ৩টি হাসপাতালে জরায়ু ক্যান্সারের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা থাকায় আক্রান্তরাও পাচ্ছেন না প্রকৃত সেবা। তাই জেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও শয্যা সৃষ্টির পাশাপাশি ব্যাপকভাবে স্ক্রিনিং প্রোগাম হাতে নিতে জাতীয় নীতিমালা তৈরির আহ্বান বিশেষজ্ঞদের। 

 জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জাহেদা বেগম জেনেছেন জরায়ু মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত তিনি। দীর্ঘদিন থেকে ভুগলেও পরিবারের কাছে গুরুত্ব পাননি। অবশেষে স্থানীয় একটি ক্যান্সার স্ক্রিনিং সেন্টারে ধরা পড়ে তার জরায়ুর নানা সমস্যা।

এই রোগীর শারীরিক অবস্থা ব্যাখা করতে গিয়ে ডাক্তার বলেন, ‘এই রোগীর আমরা জরায়ু ফেলেছি এবং দুইপাশের পেলভিক লিম্ব নোটস এবং মাসিকের রাস্তার উপরের অংশ ফেলেছি, এখন পেশেন্ট অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত।’

 আক্রান্তের সিংহভাগই আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল প্রান্তিক নারী জনগোষ্ঠী। তাই দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব ও যৌন মেলামেশায় রক্তক্ষরণ নিয়ে অসংকোচ ও লক্ষণসমূহকে মাসিকের মেয়েলি সমস্যা মনে করে প্রায়শই ভুল করেন তারা। শেষ সময়ে লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ায় প্রথমদিকে জানতেই পারেন না বেশিরভাগ ভুক্তভোগী।

গ্লোবোকেনের সবশেষ জরিপে, ধরে নেয়া হয় দেশে প্রায় ৮ হাজার নারী নতুন করে জরায়ু মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এক্ষেত্রে অপুষ্টি, ব্যক্তিগত অপরিচ্ছন্নতা, ধূমপান, মাদক জাতীয় দ্রব্য সেবন কারণ হলেও বাল্যবিবাহ সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শনাক্তের আগে আক্রান্তের অর্ধেক নারী মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। তাই জাতীয় নীতিমালার মাধ্যমে ঝূকিপূর্ণ নারীদের স্ক্রিনিং ও আক্রান্তদের চিকিৎসার সহজ সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

 ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, পরিপক্কতা আসার আগেই যখন বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, বিয়ে মানেই শারীরিক সমস্যা হচ্ছে, বাচ্চা হচ্ছে, এতে জরায়ুর কোষগুলা এক ধরনের আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে বাল্যবিবাহ রোধ করা। 

অনেকেই জানেন না, দেশের জেলা উপজেলার প্রায় ৪শ’ সেন্টারে বিনামূল্যে জরায়ু মুখের ক্যান্সারে পরীক্ষা করা হয়। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর সব নারীকে স্থানীয় ক্যান্সার নির্ণয় সেন্টারে জরায়ু পরীক্ষার তাগিদ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের।