SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ০৩-১২-২০১৮ ২০:২৪:০৬

আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়লেও সমাধানে রাষ্ট্রের নেই কোনো উদ্যোগ

suicide-7pm1

দেশে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। বিষণ্ণতা, পরীক্ষায় খারাপ ফল, প্রেমে বিচ্ছেদ, কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়াসহ নানা কারণে হতাশা থেকে মুক্তির পথ হিসেবে আত্মঘাতী হয়ে উঠছেন সমাজের এক শ্রেণির মানুষ। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়লেও সমাধানে রাষ্ট্রীয়ভাবে নেই তেমন কোন উদ্যোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যার যথাযথ কারণ অনুসন্ধান করে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সহসাই ঝরে যেতে পারে বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী।

বাংলা কলেজ ও আইডিবির ৩ টি প্রফেশনাল সার্টিফিকেট নিকোলাসের কোন কাজে আসে নি। যাও বা একটা চাকরি পেয়েছিলেন হারিয়েছেন বছর দেড়েক আগে। এরপর থেকে একাকিত্ব, বিষন্নতা সর্বোপরি জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা ধীরে ধীরে নি:শেষ করেছে নিকোলাসের বেঁচে থাকার শক্তিকে। ১৮ তলা থেকে ঝাপ দিয়ে তাই নিজের মুক্তি খুঁজেছেন নিকোলাস।

গেল ১১ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন ৮ জন শিক্ষার্থী, যেখানে বিগত একযুগে এই সংখ্যা ছিলো মাত্র ১৭। দারিদ্রতা, প্রেমে বিচ্ছেদ, কাঙ্খিত চাকরি না পাওয়ার কারণ ছাড়াও কারো কারো অভিযোগের তীর ছিল পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের দিকেই। তবে এক্ষেত্রে তরুণদের সত্যিকারের স্বপ্ন পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতাকেও দায়ী করেছেন শিক্ষার্থীরা।

জাতীয় মানসিক ইনস্টিটিউট ও পুলিশ সদর দফতরের তথ্যমতে, দেশে আত্মঘাতিদের বড় অংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে যাদের বেশিরভাগই নারী। সমস্যা সমাধানে পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও সরকারকে মূল দায়িত্ব পালনের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে আত্মহত্যার পেছনের মূল কারণ বিষন্নতা। বিষন্নতায় আক্রান্ত কারো প্রতি আলাদা খেয়াল রেখে ও বিশেষ চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে একজন মানুষকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফেরানো সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত।

আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, প্রত্যেকেই আত্মহত্যার আগে গড়ে ২৫ বার অপচেষ্টা চালান। এছাড়াও বছরে অপচেষ্টাকারীর সংখ্যা আত্মহননকারীর সংখ্যার অন্তত ১০গুণ। তাই আত্মহত্যা প্রবণ অঞ্চল ও কারণ অনুসন্ধান করে তা সমাধানে কার্যকরী পন্থা খুজেঁ তা বাস্তবায়নের জোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।