SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৭-১১-২০১৮ ০৫:২৯:৩০

স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ইসির সিদ্ধান্তে ভিন্নমত আ. লীগ-বিএনপির

ec-gono

একটি দলকে সুবিধা দিতেই নির্বাচন কমিশন স্বপদে থেকে স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের জাতীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। তাদের মতে, শেষ মুহূর্তে এসে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া উদ্দেশ্যমূলক।

তবে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগ বলছে, এর ফলে সব দলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করা অনেকটা সহজ হবে।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্বপদে থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা তা নিয়ে তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দফায় দফায় চিঠি চালাচালি হয়। বিষয়টি তখন আদালতেও গড়ায়। আদালত সেসময় দ্বিধাবিভক্ত রায় দেয়। ফলে গত এক দশকেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।

সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট অবস্থান জানতে গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনে বিএনপিসহ কয়েকটি দল চিঠি দেয়। এসব বিষয়ে শনিবার নির্বাচন কমিশনে বৈঠক করেন সচিব ও কমিশনাররা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, যেহেতু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের পদ লাভজনক সেহেতু এ পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়া যাবে না।

নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। তারা বলছে, এর ফলে বড় দলগুলো থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা অনেক প্রার্থী আপনাআপনি বাদ পড়ে যাবে। ফলে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়াও অনেক সহজ হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, 'আমাদের যারা নমিনেশন পেয়েছেন তাদের ভেতরে কিন্তু আমরা কোন উপজেলা চেয়ারম্যান বা জেলা পরিষদ, তাদের সুযোগ দেইনি। চার হাজারের ওপরে আমাদের মনোনয়ন বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে কমপক্ষে এক হাজার উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র বা এরকম প্রার্থী ছিল।'

তিনি বলেন, 'এতে সব দলের জন্য সুবিধা হবে। কারণ যখন আইনি বাধা থাকছে তাই তাদের এতটা সান্ত্বনা দিতে হবে না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সবাইকে কিছু না কিছু দিয়ে সন্তুষ্ট রাখার জন্য।'

তবে স্বপদে থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার সিদ্ধান্তকে উদ্দেশ্যমূলক দাবি করে বিএনপি বলছে, ইসি নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'এর কোন প্রয়োজনীয়তা ছিল না। এটার পেছনের উদ্দেশ্য কী তারাই বলতে পারবে। যে আইন ছিল সেই আইনে তো বহুদিন চলেছে। কেন পদত্যাগ করে নির্বাচন করতে হবে? নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই মনে হচ্ছে, সিদ্ধান্তগুলো একটা নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে একটা গোষ্ঠী, দলকে সুযোগ দেয়ার জন্য।'

তিনি আরো বলেন, 'এই সমস্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের তো কোন প্রয়োজন নাই। এগুলো তো চলে আসছে। কেউ যদি লোকাল গভমেন্ট থেকে সংসদে যেতে চায় তাকে বাধা দেয়ার তো কোন সুযোগ নাই। এটা তো সবার অধিকার।'

২০০৮ সালে পৌর মেয়রের পদে থেকে এবং ২০১৪ সালে উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যান পদে থেকে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।