SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২০-১১-২০১৮ ০৫:২৪:০৭

গ্যাস সিলিন্ডার দুর্ঘটনা: প্রতিকার নেই?

gas-fire

গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন লেগে প্রতি মাসেই ঘটছে দুর্ঘটনা। ফায়ার সার্ভিসের হিসেবে, ২০১৭ ও ১৮ সালে সাড়ে তিনশ দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ঘটেছে সিলিন্ডার থেকে। বিস্ফোরক পরিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ, সিলিন্ডারের ধাতব অংশের চেয়ে মুখের দিকের যন্ত্রাংশ কম টেকসই হয়। এ অংশের লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে ঘটে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা। তাই নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে গ্রাহকদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ দেয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার রোধে আইন সংস্কার করার কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

কয়েকদিন আগে ঢাকার ধলপুরের একটি কলোনীতে সিলিন্ডার থেকে নির্গত গ্যাসে ঘটে দু'টি দুর্ঘটনা।

কলোনীর প্রায় সব ঘরেই সিলিন্ডার থাকলেও অনেকেই জানেন না, চুলা থেকে কমপক্ষে ২ মিটার দূরে সিলিন্ডার রাখা এবং ব্যবহারের পর সংযোগ খুলে রাখাসহ অন্য নিয়মকানুন।

এক গৃহবধূ বলেন, 'আমরা এইগুলো জানি না। আগে শুনিও নাই। এখন তো আমাদের এলাকায় দুর্ঘটনার হয়েছে।'

আরেক নারী বলেন, 'থাকারই তো জায়গা নাই আবার জানালা কোন জায়গা দিয়ে রাখবো।'

অনেক ডিলারও জানেন না ব্যবহারের নিয়ম।

বিস্ফোরক পরিদপ্তর জানায়, সারাদেশে অন্তত দেড় কোটি সিলিন্ডার রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। সরকারিভাবে এগুলো তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ কঠিন। তাই মেয়াদ ও মানের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বলেন, 'এই পর্যন্ত যতগুলো দুর্ঘটনা আমরা ইনভেস্টিগেট করেছি, সিলিন্ডার অক্ষত রয়ে গেছে, ভাল্ব অক্ষত আছে কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেগুলেটর যদি ভাল্বের দিক দিয়ে লুস থাকে অথবা চুলার চাবি যদি ঠিকভাবে কাজ না করে অথবা যে হুজ পাইপটা চুলা এবং সিলিন্ডারকে সংযুক্ত করছে সেই পাইপে কোন ছিদ্র থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একটা ডিলার পর্যন্ত আমরা লাইসেন্স দিয়ে থাকি। এতটুকু পর্যন্ত আমরা পর্যবেক্ষণ করতে পারি।

ফায়ার সার্ভিসের পরামর্শ, রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ও গন্ধ শুঁকে গ্যাস শনাক্তসহ কয়েকটি নিয়ম জানলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রি. জে. (অব) আলী আহম্মেদ খান বলেন, 'ছোট গ্যাস ডিটেক্টর কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে। গ্যাস লিকেজ হলে ডিটেক্টর কিন্তু ওয়ার্নিং দিবে।'

১৮৮৪ সালের আইন দিয়ে চলছে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। নতুন করে আইন না হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। তাই দুর্ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় আনা সবসময় সম্ভব হয় না বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।