SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বিনোদনের সময়

আপডেট- ১৬-১১-২০১৮ ০৯:২৫:১৩

শেকড়ের শিল্পীদের তুলে আনছে আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব

folk-fest

ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব, দেশ ও দেশের বাইরে লোকসঙ্গীতকে ছড়িয়ে দেয়ার  তৃণমূল পর্যায় থেকে শেকড়ের শিল্পীদের তুলে আনতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে মন্তব্য করেছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায়, রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামেই লোক গানের উৎসব ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট-২০১৮’ উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বাংলা লোকসংগীতকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া এবং সারাবিশ্বে লোকসংগীতের গৌরবময় সুদৃঢ় অবস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে চতুর্থবার ‘আন্তর্জাতিক লোকসংগীতউৎসব’ আয়োজন করেছে সান ফাউন্ডেশন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রযুক্তি লোকসংগীতকে উন্নত করেছে। মজারর ব্যাপার হলো ফোক ফেস্ট চতুর্থবারের মতো আমি উদ্বোধন করলাম। এই আয়োজনটি কতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনারা লোক গানের উৎসবে মেতে থাকুন। সুরের সাগরে ভাসতে থাকুন, ডুবতে থাকুন।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিই সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, গ্রামীন ফোনের ডেপুটি সিইও ও সিএমও ইয়াসির আজমান, সান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্যে সান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘লোকসংগীত আমাদের শেকড় ও অন্তরের সুরকে তুলে আনে। আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়কেহাজার বছর ধরে গভীরভাবে বহন করছে আমাদের সকলের প্রিয় এই লোকসংগীত। ’

“সান ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশে লোকসংগীতের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা এবং শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মান ও রয়্যালটি নিশ্চিত করা। সেইবিষয়টিকে সামনে রেখে গত তিন বছরের ন্যায় এবারও আপনাদের সকলের জন্য এই আয়োজন। সকলের অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতার মাধ্যমেই লোকসংগীতকেবিশ্বের সামনে তুলে ধরা সম্ভব তাই আসুন শেকড়ের টানে সবাই এক হয়ে যাই।”

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্ট প্রতি বছরই আমাদেরকে দেশি-বিদেশি নতুন নতুন শিল্পীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।এটা আমাদের জন্য বিশেষ প্রাপ্তি।’

লোকসংগীত- মানুষ, মাটি ও প্রকৃতির গভীর থেকে অন্তরের শুদ্ধ সুর তুলে আনে এবং এর চর্চা ও প্রসারের মধ্যদিয়েই আধুনিক ও উন্নত সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধিরবাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।

উৎসবে প্রবেশের জন্য গেট খোলা হয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায়। এর কিছুক্ষণ পর শুরু হয় অনুষ্ঠান। আনুষ্ঠানিকভাবে রাত সাড়ে ৯টায় এই উৎসবের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রথম দিনেই দেশী-বিদেশী শিল্পীদের অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে এক জাঁকজমকপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হয় আর্মি স্টেডিয়াম।

সান ফাউন্ডেশনসূত্র জানিয়েছে, এবারের উৎসবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সাতটি দেশ থেকে শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন। সংগীত পরিবেশন করবেন ১শ ৭৪ জন সংগীতশিল্পী। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের শিল্পীরা হলেন মমতাজ বেগম, বাউল আব্দুল হাই দেওয়ান, বাউল কবির শাহ, নকশীকাঁথা, স্বরব্যাঞ্জো।

ভারত থেকে আসবেন ওয়াদালি ব্রাদার্স, রাঘুদিক্সিত, সাত্যকি ব্যানার্জি, পাকিস্তান থেকে শাফকাত আমানাত আলী, বাহরাইন থেকে মাজায, যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্র্যামি বিজয়ী লস টেক্সমেনিয়াক্স, পোল্যান্ড থেকে দিকান্দা এবং স্পেন থেকে লাস মিগাস আসবেন।

তিনদিনব্যাপী এই উৎসবের পর্দা নামবে ১৭ নভেম্বর। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়ে লোকসঙ্গীতে উৎসব শেষ হবে রাত ১২টায়।