SomoyNews.TV

শিক্ষা সময়

আপডেট- ২৩-০৯-২০১৮ ১০:৩৩:০৪

জাতির জনক ও রাষ্ট্রপতির নামই জানে না এই শিক্ষার্থীরা

school

দফায় দফায় ভাঙনে অবকাঠামোর অবস্থা একেবারে নাজুক। তারমধ্যে শিক্ষকদের চরম অবহেলা। ফলে দুর্বল হয়ে পড়ছে চরাঞ্চলের খেটে-খাওয়া মানুষের সন্তানদের শিক্ষা জীবনের ভিত্তি।

 

সুন্দরগঞ্জের উজান বুড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক দুই জন। অবকাঠামো বলতে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর। গুটি কয়েক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করেন সহকারী শিক্ষক। অপর শিক্ষক আসেন সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন।

যেই শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস করান তিনি বলেন, এখানে দুইজন শিক্ষক। আরেকজন সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন আসেন।

পাশের চরের স্কুল বোচাগাড়ি ভুঁইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চার শিক্ষকের মধ্যে তিনজনই অনুপস্থিত। শিক্ষকের চেয়ারে বসা আরেকজনের পরিচয় ভাড়াটে শিক্ষক। যারা বিদ্যালয়ে আসেন না তাদের হয়ে ক্লাস নেন তিনি।

তিনি বলেন, এখানে তিন থেকে চারজন শিক্ষক আছেন। তাদের আসতে দেরি হতে পারে, অথবা ঠিক সময়ে আসতে পারেন না।

শিক্ষার্থীদের দু’একটি প্রশ্ন করলেই বোঝা যায় শিক্ষকদের উদাসীনতা আর অবহেলায় শিশুদের মেধা বিকাশ কতখানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করা হয়, আমাদের জাতির জনক কে? এর উত্তরে জানে না বলে জানায় সে।

অপর এক শিক্ষার্থীকে প্রশ্ন করা হয় দেশের রাষ্ট্রপতির নাম। সেও প্রশ্নের উত্তরে নীরব থেকেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারি না থাকায় প্রাথমিকের পাঠ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চরাঞ্চলের শিশুরা। আর শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, শিক্ষকদের দায়িত্বশীল করার প্রচেষ্টা চলছে।

এক অভিভাবক বলেন, শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নেন না। আমরা কিছু বললে তার মূল্যায়ন হয় না।

গাইবান্ধার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম মন্ডল বলেন, বিলম্ব উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির জন্য ১০০ শিক্ষকের বেতন কর্তন করা হয়েছে। এক দিনেই হয়তো এই অবস্থা ঠিক হবে না তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা দেড়শোর ওপরে।