SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাণিজ্য সময়

আপডেট- ০৭-০৮-২০১৮ ০৪:০৮:২২

কোরবানির পশু বিক্রি করতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে দেশে খামারিরা

untitled-7

ক'দিন বাদেই কোরবানির ঈদ। তাই দেশীয় খামারিরা পশু বিক্রি করতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। তাদের চাওয়া যেন কোরবানিতে দেশের বাইরে থেকে পশু আমদানি করা না হয়। প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ও বলছে, এ বছর দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। লেনদেন হবে প্রায় একুশ হাজার কোটি টাকা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চাহিদা মেটাতে শেষ মুহূর্তে সরকার পশু আমদানি করতে বাধ্য হবে।

কেরানীগঞ্জের খাদেম আলী। পরম যত্নে নিজ হাতে খামারের গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সে। কারণ ক'দিন বাদেই কোরবানি। হৃষ্টপুষ্টের পাশাপাশি পশু দেখতে সুন্দর না হলে ক্রেতারা পছন্দ নাও করতে পারেন। তাই বাড়তি যত্ন।

কেরানীগঞ্জের মতো দেশের সব গরু খামারেই এখন রাত দিন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। গরু মোটাতাজা করতে ঘাসের পাশাপাশি শুধু প্রাকৃতিক খাবারই খাওয়ানো হচ্ছে বলে দাবি খামারিদের। খামারের এসব গরু দেশের প্রান্তিক এলাকা থেকে ৬ থেকে ৯ মাস আগে কিনে এনে তা বেশী দামে বিক্রির জন্য মোটাতাজা করছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

এক খামারি বলেন, 'আমরা বাছুর সরাসরি ভারত থেকে আমদানি করি। আবার কিছু খামার থেকে আনি, কিছু বাজার থেকেও কিনি। এগুলোকে আমরা ন্যাচারাল খাবার খাওয়াই।'

খামারিদের দাবি, এবারের কোরবানিতে দেশে পশুর যে চাহিদা আছে তা দেশীয় পশু দিয়েই পূরণ করা যাবে। তবে কোরবানির আগে দেশের বাইরে থেকে পশু আমদানি করলে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে দাবি খামারিদের।

এক খামারি বলেন, 'শেষ পর্যন্ত দেখা যায় যে, যে দামে বিক্রির টার্গেট থাকে সেই দামটা পাওয়া যায় না। ভারতীয় গরু চলে আসে।'

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবছর কুরবানির জন্য প্রায় এক কোটি ষোলো লাখ দেশীয় পশু প্রস্তুত রয়েছে। যেখানে গত বছর কুরবানিতে মোট পশু জবাই হয়েছিলো এক কোটি চার লাখের মতো। এবছর দেশে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত ভারত থেকে পশু আমদানি করতে সরকার বাধ্য হতে পারে।

ট্যানারি এসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ বলেন, 'ওই পরিসংখ্যান নিয়ে একটু বিতর্ক আছে। এখানে বিশাল পরিমাণে একটা ডেইরি গরু রয়ে গেছে যেটা কোরবানির জন্য প্রযোজ্য না। সুতরাং যে গ্যাপটা আছে সেই গ্যাপটা পূরণ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই পশু আমদানি করা উচিৎ।'

তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. হিরেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, 'যেগুলো কোরবানি হবে সেগুলো নিয়েই আমরা হিসাব করেছি। সবকিছু মিলিয়ে এবার প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হবে।'

কোরবানি উপলক্ষে ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় গরু চোরাচালান বন্ধে পদক্ষেপ নিতে প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বিজিবিকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।